রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি ও তার প্রভাব

Repo Rate-1

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং’- সরকারি ঋণপত্রের বাজারে সুদের হার যাতে না বাড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন ‘কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং’-এর ভারতীয় সংস্করণ ‘গভর্নমেন্ট সিকিওরিটিজ অ্যাক্যুইজিশন প্রোগ্রাম’ বা জিস্যাপ ২.০ জুলাই-আগস্ট মাসেও জারি রাখা হবে বলে জানা যায়।

এই জিস্যাপের আর্থিক বিষয়টি হল- বাজার থেকে সরকারি ঋণপত্র রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কিনবে। এক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফার জিস্যাপ ১.০-এ মে-জুন মাসে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ঋণপত্র বাজার থেকে কিনবে আরবিআই। আবার জুলাই-আগস্ট মাসে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ১.২০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ওই ঋণপত্র কেনা হবে বলেও জানা যায়। পাশাপাশি মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাজারে প্রায় ২.২০ লক্ষ কোটি টাকা ঢালবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এক্ষেত্রে নগদের যোগান বাড়লে সুদের হার নিম্নমুখী থাকবে বলেও জানা যায়।

ডেট ফান্ডে রিটার্ন কমবে। এ বিষয়ে জানা যায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২.২০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ঋণপত্র বাজার থেকে কেনার কারণে ঋণপত্রের বাজারে নগদের যোগান বাড়বে। তাতে স্বল্পমেয়াদি বা ১ বছরের কম মেয়াদের ঋণপত্রে বা মানি মার্কেট ইনস্ট্রুমেন্টে সুদের হার কমবে। ওই ধরনের ঋণপত্রের দাম বাড়বে। এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি ডেট ফান্ডের লিক্যুইড ও গিল্ট মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন তুলনায় সামান্য ভাল হতে পারে।

আবার দীর্ঘমেয়াদি ডেট ফান্ডে ৭ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের বেশি রিটার্ন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। শীর্ষ ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্য ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণপত্রের ‘ইল্ড’ সুদের হার বা ঋণপত্রের বাজার দর ৬ শতাংশে বেঁধে রাখার প্রক্রিয়া। ঋণনীতি ঘোষণার পর ইল্ড দাঁড়িয়েছে ৬.০২৮ শতাংশ। প্রসঙ্গত, ইল্ড বাড়ার অর্থ ঋণপত্রের দাম কম।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, গত বছর মে মাস থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার ঋণপত্রের বাজারেও ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণপত্রের ‘ইল্ড’ গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৫.৮৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিল মাসে ৬.২৫ শতাংশে পৌঁছে যায়।

এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধির অনুমান ৫.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.৪ শতাংশ এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের জন্য ৪.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৭ শতাংশ করেছে। নিয়ম মেনে মূল্যবৃদ্ধি বাড়লে বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ে। সেই আশঙ্কা থেকে ঋণপত্রের দাম কমে।
তৃতীয় ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ আর্থিক বছরের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশের জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান ১০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫ শতাংশ করলেও অক্টোবর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকের অনুমান ৫.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.২ শতাংশ যথাক্রমে ৭.২ শতাংশ ও ৬.৬ শতাংশ করেছে। এক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমান, অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক থেকে দেশের অর্থনীতি পূর্বের অনুমানের তুলনায় অনেক দ্রুত হারে ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দ্রুততর হলে বাজারে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ডেট ফান্ডের রিটার্ন কমবে। অন্যদিকে একটা আশঙ্কা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের ঋণপত্রের বাজারে লগ্নিকারীদের শঙ্কিত করে তুলছে বলে অভিমত। উল্লেখ করা যায়, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডেরাল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের ঋণনীতি আলোচনায় প্রতি মাসে ১২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের ঋণপত্র কেনা কম করার প্রস্তাবটি সামনে এসেছে।

করোনা সংক্রমণ কমতে থাকায় মার্কিন অর্থনীতি অনেকটা চাঙ্গা হওয়ায় সুদের হার কম রাখতে বাজারে নগদের যোগান বাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা হয়, নগদের যোগান কমলে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়। ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধির পথে ফিরলে ওই একই পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও হাঁটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : এই সময় (শেষাংশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *