সঙ্গীত নক্ষত্ৰ বাপ্পি লাহিড়ীর মহাপ্ৰস্থান
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ভারতীয় সঙ্গীত জগতে আরও এক নক্ষত্রের পতন হল আজ। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তী সুরকার বাপ্পি লাহিড়ী। লতা মঙ্গেশকর ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে না উঠতেই আজ না ফেরার পথে পাড়ি দিলেন আর এক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ী(৬৯)।
‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ রোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
কলকাতার শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সমৃদ্ধ এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি লাহিড়ী। তাঁর আসল নাম আলোকেশ লাহিড়ী। ৩ বছর বয়স থেকেই তিনি তবলা বাজাতে শুরু করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৭২ সালে ”দাদু” নামক বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেন। এরপর তিনি মুম্বাইয়ে যান। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম গীত রচনা করেন হিন্দী ভাষায় নির্মিত ”নানহা শিকারী” ছবিতে। মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত একাধিক চলচ্চিত্রে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
তাঁর গানে ও সঙ্গীত পরিচালনায় বহু ছবি জনপ্রিয়তা পায়। তার মধ্যে অন্যতম হল- এক বার কহো, সুরক্ষা, ওয়ারদাত, আরমান, চলতে চলতে, কমাণ্ডো, ডিস্কো ড্যান্সার, ড্যান্স ড্যান্স প্রভৃতি। এছাড়া সাহেব, টারজান, কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি, ওয়ান্টেড, ডেড অর এলাইভ ও শরাবী প্রভৃতি রয়েছে। একাধিক স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছেন তিনি। দেশে ও বিদেশেও তাঁর গানের সমাদর ছিল।১৯৮৫ সালে ”শরাবী” ছবিতে ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন।
এছাড়াও তিনি অনেক আঞ্চলিক চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার কাজও করেছেন। এছাড়াও বাপ্পি লাহিড়ী নিজের লেখা বেশ কিছু গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন।
শুধুমাত্র ডিস্কো সঙ্গীতের মাঝে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি। সঙ্গীতে নানা ঘরানায় গান গেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেশ কিছু গজল গানও রচনা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ বাংলা সহ গোটা ভারত। দেশের শিল্পী ও সঙ্গীত মহলে আজ শোকের ছায়া।

