tarunbabu and memoriesLifestyle Others 

তরুণবাবু বাংলা সিনেমাকে দেখিয়েছেন নতুন দিশা

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: তরুণ মজুমদার চলচ্চিত্র মহলের একটি অন্যতম নাম। তনুদা নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। সিনেমার পোস্টার বুকলেট তৈরির একটি সংস্থায় কাজ দিয়ে প্রথমে তাঁর চলচ্চিত্র জগতে পা রাখা। সিনেমার টেকনিশিয়ান হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা। এরপর সহযোগী পরিচালকের সুযোগ এসে যায়।

শ্রীমতী পিকচার্সের ব্যানারে রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবির শুটিং চলাকালীন সেই ছবির নায়ক -নায়িকা উত্তম ও সুচিত্রার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল বলে জানা যায়। তারপর তৈরি হয় “যাত্রিক”। এই ব্যানারের প্রথম ছবি হল “চাওয়া পাওয়া” । পরে দ্বিতীয় ছবি হয় “কাঁচের স্বর্গ”। সেই ছবি দুটি সুপারহিট হয়েছিল। বাঙালি দর্শক দারুনভাবে গ্রহণ করেছিল ছবিগুলি।

“কাঁচের স্বর্গ” রাষ্ট্রপতি সম্মানও পেয়েছিল। এরপর শুরু হয় তাঁর এককভাবে সিনেমা পরিচালনা। প্রথম ছবি “পলাতক”। এই ছবির নায়কের ভূমিকায় অনুপকুমার। জনপ্রিয়তা পায় ছবিটি । পরিচালক হিসেবে “নিমন্ত্রন”, “বালিকা বধূ”, “শ্রীমান পৃথ্বীরাজ”, “ফুলেশ্বরী” সহ একাধিক সফল ছবি নির্মাণ করেছেন তরুণবাবু। তাঁর সিনেমার অন্যতম বিশেষত্ব ছিল- রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার। ছবিতে নতুন প্রাণের সূচনা করেছিলেন। পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলার ঝুমুর গানকেও তাঁর ছবিতে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ করা যায়,আশি-নব্বই দশকে সিনেমাপ্রেমীদের রুচিতে অন্য অনুভূতি তৈরি হয় । সেই সময়ে তরুণ মজুমদার “দাদার কীর্তি”, “ভালোবাসা ভালোবাসা”, “পথভোলা”, “আপন আমার আপন” সহ বহু হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। বেশ কিছু ছবি সেভাবে না চললেও তাঁর শেষ সুপারহিট সিনেমা ছিল “আলো”। আবারও তরুণবাবু পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছিলেন। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এই ছবির মাধ্যমে ফের স্ব-মহিমায় চলে আসেন।

চলচ্চিত্রকে নতুন দিশা দিয়েছেন। বহু নতুন ছেলে-মেয়েকে নিজের ছবিতে কাজের সুযোগ দিয়েছেন তিনি। মৌসুমী চ্যাটার্জী, মহুয়া রায়চৌধুরী, অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পাল সহ নয়না দাসরা অভিনয় জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন । উত্তমকুমারের নাতি গৌরবকে প্রথম নায়ক হবার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাবুল সুপ্রিয়ও তাঁর ছবির নায়ক হয়েছেন। কমেডিয়ান অনুপকুমার ও সহকারী পরিচালক দিলীপ মুখার্জীও নায়কের চরিত্র পেয়েছেন তাঁর ছবিতে।

আবার নায়ক প্রসেনজিৎ খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর “আপন আমার আপন” ছবিতে। অনুপকুমার তাঁর একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। সহধর্মিনী সন্ধ্যা রায়কে তাঁর নির্মিত বহু ছবিতে সুনামের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও ছবি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। অন্তিম মুহূর্তেও তাঁর বার্তা ছিল- ” ছবি কিন্তু হবে” ..। নক্ষত্র পতন হল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের। সিনেমাপ্রেমীদের বঞ্চিত করেননি কখনও। বামপন্থী ভাবনায় নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন “সিনেমা পাড়া দিয়ে” গ্রন্থে। শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের অপরিসীম ক্ষতি হল তা বলাই যায়।
(ছবি: সংগৃহীত)

Related posts

Leave a Comment