রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর নিজস্ব ঘরানা

durga and rajbari

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রাজবাড়িতে ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানার দুর্গাপুজো। তা রাজ্যের অনেক জেলার আড়ম্বরহীন হয়ে থাকে। ভক্তি-ভরে এই পুজো করার চল রয়েছে। দেবী দুর্গার আরাধনা ও আয়োজন হয়ে থাকে রাজ্যের বেশ কিছু রাজবাড়িতে। অতীত কাল থেকেই রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় নিয়ম-নিষ্ঠা ও ঐতিহ্য মেনে পুজো হয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা গড়ার কাজে নেমে পড়েছেন। উল্লেখ করা যায়, উল্টোরথের দিন প্রতিমার খড়ের কাঠামোয় মাটির প্রলেপ লাগানো হয় ।

ধাপে ধাপে মাটির দেবী প্রতিমা-র রূপের পরিবর্তন ঘটে । জৌলুস কমে এলেও এখনও অনেক রাজবাড়ির প্রতিমাশিল্পীরা বংশ পরম্পরায় দেবী প্রতিমা নির্মানের কাজ করে চলেছেন। প্রাচীন রীতি-নীতি মেনে প্রতিবছর পুজো নির্ঘণ্ট প্রকাশ পায় । একটা সময় ছিল, পুজোয় রাজবাড়িতে যাত্রাপালা হতো। এই জমজমাট আসর বসানো হতো নাটমন্দিরে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যে সব রাজবাড়িতে এখনও দুর্গাপুজো হয়, সেখানে এই সংস্কৃতি চর্চার রেওয়াজ অনেক কমেছে। আধুনিক এই ব্যস্ততম জীবনে কোথাও কোথাও যাত্রা ও নাটকের আয়োজন হলেও তা ক্রমশ কমে এসেছে। পালা কীর্তনের পর্বও কোথাও কোথাও হতে দেখা যায়। বন্ধ করা হয়েছে বলি-প্রথা। তবে আচার মেনে কুমড়ো ও আখ বলি দিতে দেখা যায়।

অনেক রাজবাড়িতে প্রচুর পরিমাণ চালের ভোগ দেওয়া হতো। এখন চালের পরিমাণও কমেছে। বহু সংখ্যক মানুষকে খিচুরি ও প্রসাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজোর যাবতীয় উপাচার ও আয়োজন মেনে চলে দুর্গা মায়ের আরাধনা। ধুমধাম করে সন্ধিপুজোর আয়োজন চলে। নদীতে বা দীঘিতে প্রতিমা বিসর্জন করারও একটা রেওয়াজ রয়েছে। অতীত দিন থেকে আজ অবধি রাজবাড়ির নিজস্ব ঘরানাতেই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে।
(ছবি: সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *