পিতৃপক্ষ কি এবং প্রচলিত কথা-কাহিনী
পিতৃপক্ষ কি তা আপনার জানা আছে? মহালয়া অমাবস্যায় পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে। শুরু হয় দেবীপক্ষ। পণ্ডিত ও শাস্ত্রবিশারদদের নির্ঘন্ট অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথি থেকে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত পালিত হয় পিতৃপক্ষ। শুরু হয় দেবীপক্ষ। এই পিতৃপক্ষের সময় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার রীতি-রেওয়াজ অনেক প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করা হয়। পিন্ড দান থেকে শ্রাদ্ধ কর্মও করা হয়ে থাকে। শাস্ত্র ও পণ্ডিতদের মতে, পূর্বপুরুষরা এই সময় বা ক্ষণে মর্ত্যে নেমে আসে। পূর্ব পুরুষরা বংশধরদের জল গ্রহণ করে থাকেন। অন্যদিকে মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে বা কথা-কাহিনী রয়েছে, মহাবীর কর্ণের আত্মা স্বর্গে গেলে অন্ন বা জল ছাড়া তাঁকে মণিমাণিক্য খেতে দেওয়া হত । মণিমাণিক্য তো আর খাওয়া যায় না।
কর্ণ দেবরাজ ইন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এসব মণিমাণিক্য খাদ্য হিসেবে দিয়ে উপহাস করার মানে কি ? তখন দেবরাজ বলেছিলেন, তুমি সারাজীবন মণিমাণিক্য দান করেছো, কখনও পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জলদানও করনি। তাই তোমার জন্য মণিমণিমাণিক্যের এই আয়োজন। কর্ণ তখন বলেছিলেন,দেবরাজ, আমি আমার পালক পিতা-মাতার কাছে প্রতিপালিত হয়েছি। আমার আসল পূর্বপুরুষ কারা তা জানতাম না। যখন জেনেছি, পান্ডবদের মাতা দেবী কুন্তী আমারও মাতা তখন আর আমার কোনও উপায় ছিল না। মহাবীর কর্ণের কথায় দেবরাজ ইন্দ্র কর্ণকে একপক্ষকালের জন্য মর্তে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের নির্দেশ পালন করেছিলেন কর্ণ। সেই পক্ষকালই পিতৃপক্ষ বলা হয়ে থাকে। এমন কথা-কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। (ছবিঃ সংগৃহীত)

