সময়ের সাথে সাথে বদল
সময়ের সাথে সাথে কতো কিছু বদল আসছে। এক অদ্ভুত এই সময়। এক অদ্ভুত এই যুগ। একটা সময় ছিল কেউ সুখী হলে হেসে উঠতো। বর্তমান সময়ে কেউ সুখী হলে স্ট্যাটাস দেয়। “Feeling Happy!” ইত্যাদি ইত্যাদি। ভ্রমণে বের হই, ভ্রমণের মুহূর্তে ছবি তোলাকে উপভোগ করি না, ছবি তোলাকে গুরুত্ব দিই শুধু। কোন ছবিটা ফেসবুকে পোস্ট করলে বেশি লাইক-কমেন্ট পাবে সে সব নিয়ে ভাবতে থাকি। আবার খেতে বসে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করি না, আগেই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। খাবারটা নিয়ে মাথাব্যথা থাকে না। এমনকী খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলেও খেয়াল থাকে না।
ফেসবুক যেন মনে হয় একটা সাজানো শোকেস। সেখানে সবাই নিজেকে সাজিয়ে রাখতে চাইছে। ভালো পোশাক, ভালো সাজগোজ, ভালো ভ্ৰমণ স্থল, রকমারি হোটেল, হাসি মুখের সেলফি তুলে তাক লাগানোর চেষ্টাতে থাকি। এটা দেখেই ভেবে চলেছি-সব মানুষ কত সুখী রয়েছে। অন্যদিকে একটা অংশের মানুষ মনে করছেন, আমিই শুধু অসুখী! আপনার একজন বন্ধু রাজপ্রাসাদ থেকে ছবি পোস্ট করেছে, আপনি ভাবলেন, বন্ধুটা কতো সুখী রয়েছে, তার জীবনের সফলতা নিয়ে আপনি ভেঙে পড়লেন। আপনার সুন্দর জীবন নয় বলে আক্ষেপ শুরু হলো। তাই অন্যের জীবনের হাইলাইটস দেখার পর নিজের জীবনটাকে বিচার করতে যাবেন না। এর জেরেই মর্মাহত হতে যাবেন না। মনে রেখে চলুন-আমরা অন্যের জন্য বাঁচি না, নিজের জন্যও বাঁচি। অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে শেষ করা ঠিক হবে না। ও বাড়ি করেছে গাড়ি কিনেছে আমি পারলাম না। এই তুলনা করেই রাতের ঘুম ছোটাতে যাবেন না। এমন করে জীবনের সুখটা হারিয়ে ফেলবেন না। নিঃশব্দ সুখটা উবে যাচ্ছে ফেসবুক দেখার ঠ্যালায়। ফেসবুকে চটকদারি সুখ দেখানো যেতে পারে, প্রকৃত সুখী হওয়া যায় না। লাইক পেয়ে পেট ভরবে না, কমেন্ট দিয়ে মনও ভরবে না। কোনও একদিন ফোনটা সরিয়ে রেখে, ছবি না তুলে, একান্তে পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন, প্রাণ খুলে হাসবেন, সেদিন উপলব্ধি করবেন আপনি আসল সুখী। ফেসবুকে সুখী না হয়ে, আসুন, সত্যি সত্যি একটু সুখ খুঁজে নিই। সবাই যে এমন তা কিন্তু নয়।
