অস্তিত্ব সঙ্কটে সংযুক্ত মোর্চা-প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়। ৮৫ শতাংশ আসনেই সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একেবারে করুণ দশা বাম-কংগ্রেসের। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৮৫ শতাংশ আসনেই সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হল। একেবারে খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে বামশিবির।
পাশাপাশি ভোট প্রাপ্তির হারও তলানিতে। এবার ৫ শতাংশের নীচে দাঁড়িয়েছে বামেদের ভোট ৷ জোটসঙ্গী কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত করুণ৷ প্রাপ্তি ৩ শতাংশেরও কম ভোট ৷ মাত্র ১টি আসনে জয় পেয়েছে সংযুক্ত মোর্চার শরিক আইএসএফ ৷ বিশ্লেষকরা বলছেন,ভাঙড়ের একটি আসনে সংযুক্ত মোর্চার জয়ের পর বাম-কংগ্রেস শরিক দলগুলি লজ্জাকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
ভোট বিশ্লেষকরা দেখেছেন, যে ২৯২টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৪২টিতে এই অবস্থা সামাল দিয়েছে মোর্চার প্রার্থীরা ৷ নিয়ম মোতাবেক একটি বিধানসভা কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের ১৬.৫ শতাংশের কম পেয়ে থাকেন তাহলেই তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয় ৷
আরও দুরাবস্থা কংগ্রেসের ৷ দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধি যে দু’টি কেন্দ্রে প্রচারে এসেছিলেন, সেই গোয়ালপোখোর এবং মাটিগাড়া- নকশালবাড়ি কেন্দ্রেও কংগ্রেস প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হল।
আবার ৩ দলের হিসেব অনুযায়ী, ১৭০টি আসনে লড়ে মাত্র ২১টিতে জামানত রক্ষা করেছে বামেরা ৷ ৯০টি কেন্দ্রে লড়ে কংগ্রেস ১১টিতে মুখরক্ষা করতে পেরেছে। আবার আইএসএফ ৩০টি আসনে লড়ে ১০টিতে জামানত বাঁচাতে পেরেছে।
আইএসএফ ভাঙড় কেন্দ্রে জয় পেল। এছাড়া সংযুক্ত মোর্চা হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, দেগঙ্গা ও ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছে ৷ ওই চার কেন্দ্রেই তৃতীয় স্থানে বিজেপি ৷
বাম শিবির ৪টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে। কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে ২টি কেন্দ্রে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এক্ষেত্রে মত, বাম-কংগ্রেসের ভোট আসলে গিয়েছে তৃণমূলের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক করার কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে এর ফলেই।

