Corona Effect-6Health Others 

করোনা আবহে সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ২০২০ সালটা বিপর্যয়ে কেটেছে। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব। ভারতেও বহু মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সংক্রমণের গ্রাফ এখন কিছুটা নিম্নমুখী হলেও মৃত্যু থেমে নেই। ২০২১ সালের নতুন বছরেও এই অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ মানুষই এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন। অনেক মানুষের কোনও উপসর্গই দেখা দিচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিছু মানুষ করোনা আবহে আক্রান্ত হয়ে সুস্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলছেন। সংক্রমণের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনের সমন্বয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হচ্ছেন। করোনা পরবর্তী সময়ে কিছু গুরুতর সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যেমন- ফাইব্রোসিস- মূলত করোনা সংক্রমণ থেকে ফুসফুসে ফাইব্রোসিস অসুখটি হচ্ছে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে বায়ুর আদান-প্রদানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এরফলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলতে ফিরতে সমস্যা, অল্প হাঁটার পর হাঁপ ধরা, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হাঁপ ধরা, শ্বাসকষ্ট ও কাশি প্রভৃতি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীকে দীর্ঘদিন অক্সিজেন দিতে হতে পারে। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকাটা জরুরি। বাড়িতেই চালানো যেতে পারে ফিজিওথেরাপি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আরও পরামর্শ, রোগীকে বিভিন্ন ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে হবে। খাদ্যাভ্যাসেও বদল করতে হবে। আবার পেশির সক্ষমতা ফেরানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রোটিন গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি ফুসফুস সুস্থ রাখতে বিভিন্ন ওষুধ খেতে হবে। অন্যদিকে থ্রম্বোসিস নিয়েও ভাবতে হবে। রক্তবাহী নালীর মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়ে থাকে। করোনা আক্রান্ত হয়ে এই সমস্যায় অনেক মানুষ ভুগছেন। থ্রম্বোসিস যে-কোনও রক্তবাহী নালীতে হতে পারে।

হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সংযোগকারী ধমনীতে এই সমস্যা বেশি হতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হল শ্বাসকষ্ট। ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা করে রোগ সম্বন্ধে ধারণা করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উপায়ে চিকিৎসা করার প্রয়োজন রয়েছে। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার দরকার। অনেক সময় মস্তিষ্কের রক্তনালীতেও থ্রম্বোসিস হয়ে মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্ট্রোকের মতো মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত হলে রোগীর বিশেষ পর্যবেক্ষণ জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এই সব ক্ষেত্রে রোগীকে অ্যান্টি-কোয়াগুলেন্ট ওষুধ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দিতে হয়।

রোগী হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এলেও ওরাল অ্যান্টি-কোয়াগুলেন্ট ওষুধ খেতে হয়। আক্রান্তের অন্যান্য অসুখ থাকলে সেই ওষুধও চলে। স্ট্রোক থেকে প্যারালিসিস বা অন্য সমস্যা হলে রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে হার্টের করোনারি আর্টারিতে থ্রম্বোসিস হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা চালানো হয়ে থাকে। বাড়িতে বিশ্রামে থাকা চাই। তেল, ঘি, মশলা ও রেডমিট প্রভৃতি খাবার খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। করোনা এনকেফেলোপ্যাথি- করোনা সংক্রমণ মাথায় প্রদাহ সৃষ্টি করলে করোনা এনকেফেলোপ্যাথি হয়। কথা জড়িয়ে যাওয়া, সংজ্ঞা হারানো, কিছু বুঝতে না পারা ও খিঁচুনি প্রভৃতি এই রোগের উপসর্গ বলা হচ্ছে।

এই রোগের চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হয়। প্রায় এক পক্ষকাল সময়ের পর প্রদাহ কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ওই রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খাওয়া জরুরি। করোনা পরিস্থিতিতে শরীর দুর্বল হওয়া স্বাভাবিক। সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন দুর্বলতা গ্রাস করে রাখে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ও ভিটামিন ট্যাবলেট খেতে হবে। থাকতে হবে পর্যাপ্ত বিশ্রামে।
করোনা থেকে মুক্তির পর সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে সেই অঙ্গের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খাওয়া ও টেস্ট করা দরকার। পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া দরকার। শরীরে সমস্যা থাকলে পরিশ্রম করার দরকার নেই। বিশ্রাম নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।

Related posts

Leave a Comment