অতীত-কথা : দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিনী মন্দির
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিনীর মন্দির গড়ে ওঠার কথা-কাহিনী অনেকেরই জানা। রানি রাসমণি এই মন্দির দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে নির্মাণ করেছিলেন। কাশীধামে যাত্রা করার মনস্থির করেছিলেন রাসমণি। এরপর স্বপ্নাদেশে দেবীর আদেশ ছিল,গঙ্গাতীরেই দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার। গঙ্গাতীরে জমি ক্রয় করে রানি রাসমণি মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন রানি রাসমণি। স্থানীয়ভাবে কথিত রয়েছে,১৮৪৭ সালে এই মন্দিরের নির্মাণ কার্য শুরু হয়েছিল। মন্দির নির্মাণের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছিল ১৮৫৫ সালে।
মন্দির প্রতিষ্ঠার শুরুতে প্রধান পুরোহিত ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। পরমহংসদেব দাদার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এটি তাঁর সাধনক্ষেত্ররূপে পরিচিত হয়। সহধর্মিনী সারদা দেবীও এই মন্দির চত্বরে থেকেছেন। সারদা মায়ের থাকার স্থানটি এখন সারদা দেবীর মন্দির বলে খ্যাত হয়েছে। সেই সময় থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ৩০ বছর শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে থেকেছেন। আজ এই মন্দিরটি তীর্থক্ষেত্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
আজও শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দেখানো পথেই দেবী মায়ের আরাধনা হয়ে থাকে। ভবতারিণী মায়ের পরনে পরানো হয় বেনারসী। অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত থাকে সোনার অলঙ্কার । ঠিক যেন বাড়ির কন্যা সাজে সাজানো হয় দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণীকে । রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের এই পুজো রীতি-রেওয়াজ মেনেই দীর্ঘকাল ধরে হয়ে আসছে। ভোরে বিশেষ মঙ্গলারতিই এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মঙ্গলারতি দেখার জন্য ভক্ত-দর্শনার্থীরা অতি ভোরে মন্দিরে প্রবেশ করেন।
উল্লেখ করা যায়, কালীপুজোর রাতে ভবতারিণী মায়ের জাঁকজমক করে পুজো হয়ে থাকে। ভক্ত-দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি পুজোর আয়োজন হিসেবে নানাবিধ ভোগ-উপাচারের ব্যবস্থা থাকে । এই বিশেষ দিনটিতে রাতে পুজো-পর্বের পর ভবতারিণী মা-কে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। ভবতারিনী মায়ের পুজো হয় ভক্তি-নিষ্ঠাভরে।
(ছবি: সংগৃহীত)
মা জগতের সবার মঙ্গল কামনা করেন।
(আপনার নিজস্ব মতামত প্রত্যাশা রাখি)

