তেজ ও অশুভ শক্তির মূর্ত প্রতীক দেবী কালিকা
দেবীরূপেণ মহাকালী। দশ মহাবিদ্যার অন্যতম কালী। প্রধান শক্তির দেবী হিসেবে পরিচিত। তেজ ও অশুভ শক্তির মূর্ত প্রতীক। পুরাণ মতে বলা হয়েছে,দেবী কালী কখনও চণ্ডীরূপে কখনও মাতঙ্গীরূপে। কখনওবা হিমালয় মেনকার দুহিতা। কৃষ্ণবর্ণ যার ত্বক। শাস্ত্র পণ্ডিতরা বলেন,কালী ভিন্ন রূপে উগ্রতারা। কৃষ্ণরূপ থেকে গৌর অঙ্গে পরিবর্তিত হন বলেই তিনি কৌশিকী। ছিন্নমস্তা রূপেও তিনি বিরাজমান। কালী পরমা প্রকৃতি করলা। ঋকবেদে বর্ণনা করা হয়েছে,গভীর তমসাবৃত অন্ধকারের সঙ্গে। কালরাত্রি-মহারাত্রি হিসেবেও কালী পরিচিত।
অগ্নি-অমঙ্গলনাশিনী রাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
দেবী কালীকে ধ্বংসকারী এবং নব-নির্মাণের প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। বলপ্রদায়িনী রূপেও দেবী কালীকে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে নারী শক্তির তেজষ্মিতার প্রতীক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। কালী ভাবনা থেকেই ‘কালী কাহন” নাটক। শ্রীচণ্ডী অনুসারে জানা যায়, দেবী পার্বতী কৃষ্ণকোষগুলি ত্যাগ করে গৌরী হয়েছিলেন। সেই কৃষ্ণবর্ণ কোষ থেকেই দেবী কৌশিকী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শুম্ভ-নিশুম্ভ বধে দেবী কৌশিকী থেকে চণ্ডিকা রূপকেই আমরা দেবী কালী রূপে তুলে ধরি। চণ্ডীর বিভিন্ন অধ্যায়ে আমরা দেবীর অষ্টরূপের উল্লেখ পাই। যেমন-উগ্রচণ্ডা,প্রচণ্ডা,চণ্ডগ্রা,চণ্ডনায়িকা,চণ্ডা,চণ্ডবতী,চণ্ডরূপা ও শ্রীচণ্ডিকা।

