mahasakti durgaEducation Entertainment Others 

শক্তিময়ী মহাদেবী মহিমা

দশভুজা মূর্তির আবির্ভাব কিভাবে হলো তা নিয়ে পণ্ডিত ও শাস্ত্রবিশেষজ্ঞদের অনেক চর্চা শোনা যায়। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়,আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে দেবতাগণের মিলিত তেজপুঞ্জ থেকে দশভুজা মূর্তির আবির্ভাব ঘটেছিল। হিমালয়ের ঋষি ক্যাতায়নের আশ্রমে আবির্ভূত হওয়ার কারণে তিনি কাত্যায়নী নামে পরিচিত। দেবীর বিচিত্রবর্ণার কথাও উল্লেখ পাওয়া যায়।
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে উল্লেখ রয়েছে,শিবের তেজে দেবীর মুখ,বিষ্ণুর তেজে দেবীর বাহুসমূহ সৃষ্টি,ইন্দ্রের তেজে শরীরের মধ্যভাগ,ব্রহ্মাতেজে দেবীর পদযুগল, বরুণের তেজে জঙ্ঘা ও উরুদ্ধয়,সূর্যের তেজে পদাঙ্গুলি, চন্দ্রের তেজে স্তনযুগল,পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, অষ্টবসুর তেজে করাঙ্গলি,কুবেরের তেজে নাসিকা সৃষ্টি হয়। নানা তেজের রঙ অনুযায়ী দেবীর রঙ বিভিন্ন রঙের বলে বর্ণনা করা হয়। আবার দক্ষদি প্রজাপতিদের তেজে দাঁত, বহ্নির তেজে তিন চক্ষু সৃষ্টি।সন্ধ্যাদেবীর তেজে ভ্রুযুগল এবং বায়ুর তেজে দুটি কর্ণ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে দেবতাগণ দেবীকে নিজ নিজ অস্ত্র দান করে সুসজ্জিত করে তুলেছিলেন। শক্তিময়ীরূপে দেবীর আবির্ভাব ঘটলো। দেবী হয়ে উঠলেন মহাদেবী। ত্রিশূলধারী মহাদেব দিলেন ত্রি-শূল,বিষ্ণু দিলেন চক্র,অগ্নিদেব
দিলেন শক্তি,পবনদেব দিলেন ধনু এবং দুটি বাণপূর্ণ তুনীর,ইন্দ্র দিলেন বজ্র, মৃত্যুরাজ যম কালদণ্ড,জলদেবতা বরুণ শঙ্খ দিলেন,ব্রহ্মা রুদ্রাক্ষমালা ও কমণ্ডলু দিলেন। কাল দেবতা দিলেন খড়গ। ক্ষীরোদ সমুদ্র মুক্তাহার,নাগরাজ বাসুকী নাগহার,দেবীর লোমকূপ সূর্য নিজকিরণ দিয়ে পূর্ণ করলেন। হিমালয় বাহন রূপে সিংহকে দিয়ে দেবীরূপ সম্পূর্ণ করেছিলেন। দেবীর কাত্যায়নী রূপ মহিষাসুরমর্দিনী রূপে প্রকাশ পেল। তিনি হয়ে উঠলেন মহাদেবী।

Related posts

Leave a Comment