Bishnupur (1)Others 

প্রথাগতভাবে চলে আসছে বিষ্ণুপুর রাজপরিবারের দুর্গোৎসব

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ কথিত রয়েছে পূর্ব বনবিষ্ণুপুরের (বর্তমানে বিষ্ণুপুর) আশেপাশের ঘন বনে রাজার শিকার অভিযানের সময় তিনি একটি সুন্দর হরিণ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি তাঁর দিনের অভিযানকে সফল করার জন্য বন্য হরিণটিকে মরিয়াভাবে তাড়া করছিলেন। কিন্তু সে’ই শুধু একেলা ওই ঘন জঙ্গলে হারিয়ে যাননি, আশ্চর্যরূপে ঝোপঝাড়ের মধ্যেই মায়াবী হরিণটিও হারিয়ে গিয়েছিল। এমন ঘন জঙ্গল যেখানে সূর্যের রশ্মিও প্রবেশ করতে পারে না। রাজাকে আশ্চর্য করার জন্য তখন আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।

শিকারে তাঁর সাথে আসা শিকারী বাজটি একটি বককে দেখে উত্তেজিত হয় ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাকে তাড়া করে। বাজটি বকটিকে ধাওয়া করার সময় রাজা তাঁর চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। রাজা যখন এই ধরনের ঘটনা নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন, তখন তিনি একটি মহিলা কন্ঠে উচ্চ কণ্ঠস্বর শুনতে পান, “এই সেই পবিত্র স্থান যেখানে আমি আছি। আপনার রাজধানীটি এখানে স্থানান্তর করুন। এখানকার মাটি খনন করার পরে আপনি আমার মুখের একটি চিহ্ন খুঁজে পাবেন। এবং এখানে আমার একটি মন্দিরও স্থাপন করুন।”

বিষ্ণুপুরের লোকদের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে, সেই সাহসী রাজা যিনি ঐশ্বরিক কণ্ঠ শুনেছিলেন তিনি হলেন বাগদি মল্ল রাজবংশের ১৯ তম রাজা জগৎমল্লা। তিনি মল্লভূমে ৯৯৪ -১০০৭ খ্রিষ্টাব্দ অবধি রাজত্ব করেছিলেন। ওই ঐশ্বরিক কণ্ঠস্বর ছিল মা জগদম্বার, দেবী দুর্গার অপর নাম। তিনি জগতমল্লাকে তাঁর রাজধানী প্রদ্যমেনাপুর থেকে বনবিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করার জন্য এবং মা মৃন্ময়ী দেবীর মন্দির স্থাপনের জন্য (দেবী দুর্গার আরও একটি নাম) আদেশ দিয়েছিলেন। মাটি খননের পরে রাজা যে ছোট মুখটি খুঁজে পেয়েছিলেন তা মা মৃন্ময়ীর মূর্তিতে প্রতিস্থাপিত করা হয় বলে জানা গিয়েছে, যা গঙ্গার মাটি দিয়ে তৈরি হয়েছিল। সেই থেকেই এখানে প্রথাগতভাবে চলে আসছে এই দুর্গোৎসব।

আজ থেকে শুরু হল বিষ্ণুপুর রাজবাড়ীর দুর্গা পুজো

Related posts

Leave a Comment