নজরে রবিবাসরীয় রাজনৈতিক তরজা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রবিবার বাংলায় ভোট প্রচার ঘিরে তরজা তুঙ্গে। অমিত শাহ এসেছেন বঙ্গে । পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। রাজ্যের কোনও উন্নতি হয়নি বলেও দাবি করেছেন শাহ। ওই সভায় অমিত শাহ দাবি করেছেন, “পরিবর্তন হয়নি। অনুপ্রবেশ আগেও হত, এখনও চলছে। মমতা দিদি অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারবেন? মোদিজির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার তৈরি করুন, ৫ বছরের মধ্যে বাংলায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। বাম-তৃণমূল রাজ্যের কোনও উন্নতি করেনি।”
অন্যদিকে ভোট প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ায় ডোমজুড়ের বাঁকড়াতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হল এলাকার পরিস্থিতি।
তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। তেড়ে যান বিজেপি কর্মীরাও। বচসা থেকে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয় তৃণমূল-বিজেপি কর্মীদের,এমনই অভিযোগ।
আবার পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন যুব তৃণমূলের সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ভোট প্রচারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। অভিষেক দাবি করেছেন, বিজেপির মন্ত্রীদের সভায় লোক আসছে না, আর মমতার জনসভায় জনসমুদ্র দেখা যাচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেকের আরও মন্তব্য, “গণতান্ত্রিকভাবে সন্ত্রাস রুখতে হবে। চমকে, ধমকে এবার ভোট হবে না।”
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন অভিষেক। তৃণমূল সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই ময়নার মানুষদের ভোট বাক্সে জোড়া ফুলে ভোট দেওয়ার আবেদন করলেন তিনি।
জল্পনা আগেও ছিল। এগরায় অমিত শাহের সভায় বিজেপিতে যোগ দিলেন শিশির অধিকারী। বিজেপিতে পা রেখে তাঁর মন্তব্য, “ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব অমিত শাহ। আর নরেন্দ্র মোদির নেতার নেতৃত্বেই আসবে বাংলার পরিবর্তন।”
গতকাল খড়গপুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর আজ ফের বাংলা সফরে প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য,গত বুধবার পুরুলিয়ায় সভা করেন মোদি। আজ বাঁকুড়ার তিলাবেদিয়ার জনসভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। এক্ষেত্রে তাঁর দাবি, “যত দিদিকে প্রশ্ন করি, তত উনি আমার উপরে ক্ষুব্ধ হন। উনি তো এখন আমার চেহারাও পছন্দ করেন না”।
আরও একবার তৃণমূলের ভোট প্রচারের স্লোগান “খেলা হবে”-কে কটাক্ষ করলেন। তৃণমূলের সংস্কৃতি নিয়েও সরব হলেন মোদি। এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে ভোটে শিক্ষা দিতে চায়, এটা দেখে দিদি ঘাবড়ে গিয়েছেন। তৃণমূল কর্মীরা আমার মাথার উপরে দিদির পায়ের ছবি আঁকছেন। আমি দেশের জন্য নিজের মাথা উৎসর্গ করেছি। দিদি, আমি আপনাকে বাংলার বিকাশকে লাথি মারতে দেব না। এ রাজ্যের মানুষের স্বপ্নকে লাথি মারতে দেব না।”
রবিবারের প্রচারে উত্তর কাঁথির জনসভা থেকে নাম না করে অধিকারীদের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর মন্তব্য, “বিজেপিতে না গেলে আমরাই তাড়িয়ে দিতাম”। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতেই “বহিরাগত” বিষয়টি সামনে আনলেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য,”এটা বাংলার ভোট। দিল্লির ভোট নয়। আমার দরকার এখন বাংলা। আমার এখন দিল্লির দরকার নেই। বাংলায় যদি আমায় চান। আমার সব প্রার্থীদের জেতান”। উত্তর কাঁথির জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রীর আরও মন্তব্য, “কাজ করলাম আমি। নাম করল গদ্দাররা। আমি সরকারের মন্ত্রী করলাম। আর তুমি তাই নাম লিখেছো। কারও নাম না করেই মমতার হুঙ্কার, বিজেপিতে না গেলে আমরাই তাড়িয়ে দিতাম।” ইঙ্গিতটা যে শান্তিকুঞ্জের দিকেই,তা বুঝে নিতে পারছেন রাজনৈতিক মহল।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

