বন্যপ্রাণ-জনজাতিদের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে পদক্ষেপ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : জনজাতি গোষ্ঠীর প্রাচীন প্রথা যেমন রয়েছে তেমনি বন্যপ্রাণী বাঁচানোর তাগিদও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রতি বছর ‘শিকার উৎসব’ নিয়ে জঙ্গলমহল-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সমস্যা তৈরি হয়। বন্যপ্রাণী শিকারকে কেন্দ্র করেই এই অশান্তির সৃষ্টি হয়। উল্লেখ করা যায়, জনজাতি গোষ্ঠীর শিকার উৎসবকে নির্দিষ্ট কাঠামোয় বাঁধতে চাইছে বন দফতর, যাতে বন্যপ্রাণীরাও বাঁচতে পারে আর জনজাতিদের গোষ্ঠীগত আচার-সংস্কারও বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বন দফতর সূত্রের খবর, আগামী বছর থেকে নতুন ধাঁচে শিকার উৎসব চালু করতে উদ্যোগী তাঁরা। ওই উৎসবে বন্যপ্রাণী হত্যা হবে না। তার পরিবর্তে থাকবে তিরন্দাজি, বর্শা ছোড়ার মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বন দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণ ও জনজাতিদের সংস্কৃতি, দুটিই অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, বৈশাখ মাসের শিকার উৎসবে জনজাতি গোষ্ঠীর লোকেরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যান। পাখি, কাঠবেড়ালি, গোসাপ ও সজারু-সহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, এই উৎসব জনজাতি গোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে রয়েছে প্রাচীন আমল থেকেই। বর্তমান আইনে বন্যপ্রাণ শিকার নিষিদ্ধ বলে গণ্য। বন দফতর ও বন্যপ্রাণপ্রেমীরা বেশ কিছু ক্ষেত্রে জনজাতিদের নিরস্ত করলেও অনেক জায়গায় অবাধে শিকার চলে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যপ্রাণপ্রেমীরা। শিকারে বাধা দিলে অনেক ক্ষেত্রে শিকার উৎসবে সামিল লোকজন ক্ষিপ্ত হন।
এক্ষেত্রে বন দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, এই উৎসবের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা না-থাকার ফলে লোকজন দল বেঁধে বিক্ষিপ্তভাবে বেরিয়ে পড়েন। তার পরিবর্তে সংগঠিতভাবে উৎসবের আয়োজন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিবাদ-বিতর্ক কমতে পারে। এ বিষয়ে বন দফতরের বক্তব্য, বন্যপ্রাণ শিকার ঠেকানোর জন্য তাঁরা জনজাতি গোষ্ঠীগুলির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে জেলা ও রেঞ্জ স্তরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। ওই জেলাগুলিতেই জনজাতি গোষ্ঠী মানুষের বসবাস বেশি থাকে।

