মিউজিক থেরাপি

Music Therapy

এখনকার সময়ে গান একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুনেই অবাক হলেন তো! অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি মিউজিক থেরাপি বা সঙ্গীতভিত্তিক থেরাপি হিসেবে পরিচয় বহন করছে। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়, মন খুব খারাপ থাকলে পছন্দের গান শুনলেই মনের অস্থিরতা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,গান শোনার মুহূর্তে মস্তিষ্কে গভীর স্নায়বিক (Neural) পরিবর্তন ঘটে যায়। এখানে রয়েছে সুর আর শব্দের খেলা। যেমন-ছোট্ট শিশুরা জন্মের পর থেকে যে সব শব্দগুলির সাথে পরিচিত হয়ে ওঠে তার মধ্যে প্রধান হল-তার মায়ের কণ্ঠস্বর। সেই শব্দে ছন্দ, সুর ও আবেগ থাকে তা সে অনুভব করে। মানুষের মস্তিষ্ক ছোট থেকেই সেই সব শব্দের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বাভাবিক ভাবেই সাড়া দিতে শেখে। একটু খেয়াল করে দেখবেন, মানুষ আনন্দে থাকলে গান শুনতে পছন্দ করে। অন্যদিকে মনকষ্ট বা মনের অস্থিরতা তৈরি হলে নির্জনে বসে সে গান শুনতে পছন্দ করে।

এক্ষেত্রে এই অনুভূতি শুধুমাত্র আবেগ নয়। এর নেপথ্যে গভীর বৈজ্ঞানিক কারণ লুকিয়ে রয়েছে বলে মনোবিজ্ঞান (Psychology), স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience) ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গবেষকদের বক্তব্য হল, প্রিয় গান একজন মানুষের মস্তিষ্কে এমনভাবে কাজ করে, যা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে অনেকখানি সহায়তা করে থাকে। তাই সঙ্গীতভিত্তিক থেরাপি বা Music Therapy-র গুরুত্ব বেড়েছে। মনের প্রশান্তির জন্য ভালো গান শুনুন আর আনন্দে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *