আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিশদ তথ্য
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ করোনার প্রভাবে এবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া গিয়েছে। তাও শেষ হওয়ার মুখে। এই সমস্যার সমাধানে বিশদ আলোচনা করা হল। প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তার আগের অর্থবর্ষের রিটার্ন জমা দিতে হয় সাধারণত। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য এ বার সময় বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর করে ছিল কেন্দ্র। পরে তা আরও বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সুতরাং হাতে সময় স্বল্প। এই সময়েই যাবতীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। কোনও কর দেওয়া বাকি থাকলে, তা দিয়ে দিতে হবে ২১ দিনের মধ্যেই। তারপর রিটার্ন জমা দিতে হবে। ভেরিফিকেশনের কাজওসেরে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে পারেন।
রিটার্ন দাখিল কেন করতে হবে তা সবিস্তারে জানানো হল- কর দিতে না হলে রিটার্ন জমা না-দিলেও চলে। অনেক ক্ষেত্রে তা দাখিল করে রাখতে পারলে ভাল। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলকও। পাশাপাশি যে সমস্ত কারণে রিটার্ন দেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে তা হল-
মোট রোজগার করমুক্ত আয়ের থেকে বেশি হলে, যেমন- গৃহসম্পত্তি, মূলধনী লাভ থেকে আয় হলে, আবার আয়কর রিফান্ড পাওয়ার কথা থাকে, যদি বিদেশে সম্পত্তি ক্রয় করে থাকেন বা সেখান থেকে কোনও রোজগার করে থাকেন, এক্ষেত্রে যদি বিদেশে যেতে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়, ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের জন্য আবেদন করতে চাইলে, আবার লাভ হোক বা না হোক লিমিটেড কোম্পানি এবং অংশীদারি ফার্মকে রিটার্ন ফাইল করতেই হয়।
এক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত- অনলাইনে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। সেখানে হাতেও ফর্ম ভর্তি করে দাখিল করা যায়। যেমন- করদাতার বয়স যদি ৮০ বছরের বেশি হয়ে থাকে, মোট করযোগ্য আয় ৫ লক্ষ টাকা না ছাড়ালে এবং রিফান্ড পাওয়ার কোনও ব্যাপার না-থাকলে। এক্ষেত্রে আরও জানা গিয়েছে, আয়ের ধরন অনুযায়ী রিটার্নের ফর্মও আলাদা। প্রতি বছরই ফর্মে কিছু না কিছু বদল এনে থাকে কেন্দ্র। সেই জন্য প্রথমেই জেনে নেওয়া উচিত কোন ফর্ম কার জন্য। সূত্রের খবর, ২০১৯-২০ সালের জন্য মোট ৭টি ফর্ম (আইটিআর) প্রকাশ করেছে আয়কর দফতর। সেগুলি হল-
আইটিআর-১ এই ফর্ম সব চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। এই ফর্ম জমা দেওয়ার কথা যে সব আয়ের ক্ষেত্রে, সেগুলি যথাক্রমে- বেতন বা পেনশন বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, একটি গৃহ সম্পত্তি থেকে, অন্যান্য সূত্র থেকে (লটারি এবং ঘোড়দৌড় বাদে), কৃষি কাজে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত।
আইটিআর-২ এটি জমা দেওয়ার কথা যে সমস্ত আয়ের ক্ষেত্রেবলা হয়েছে সেগুলি হল- বেতন ও পেনশন থেকে, এক বা একাধিক বাড়ি থেকে, লটারি ও ঘোড়দৌড় সহ অন্যান্য সূত্রে এই তিনটি মিলিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়ালে, বিদেশে সম্পত্তি এবং বিদেশ থেকে, চাষ থেকে ৫০০০-এর বেশি যখন, কোনও সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে, বাজারে নথিভুক্ত নয়, এমন সংস্থার শেয়ার কিনে।
আইটিআর-৩ এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে – কোনও ব্যক্তি বা অবিভক্ত হিন্দু পরিবার, যাঁদের ব্যবসা অথবা পেশাগত আয় রয়েছে, উপরের শর্তটি পূরণ করলে এই রিটার্নে বেতন, পেনশন, মূলধনী লাভ, গৃহসম্পত্তি থেকে কিংবা অন্যান্য সূত্র থেকে আয় সবই থাকতে পারে।
আইটিআর-৪ যেমন- ব্যক্তি, অবিভক্ত হিন্দু পরিবার অথবা অংশীদারি ফার্ম, যারা ধারা ৪৪এডি অথবা ৪৪এই অনুসারে ব্যবসার সম্ভাব্য আয়ের ভিত্তিতে অথবা ৪৪এডিএ অনুযায়ী সম্ভাব্য পেশাগত আয়ের রিটার্ন পেশ করেন, এই ফর্মটিতে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন বা পেনশন বাবদ রোজগার দেখানো হয়ে থাকে, একটি গৃহসম্পত্তি থেকে অনধিক ৫০ লক্ষ টাকা আয় বা অন্যান্য সূত্র থেকে আয়ও দেখানো যায়।
আইটিআর-৫ এর ক্ষেত্রে- অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে যাঁদের, লিমিটেড লায়বিলিটি পার্টনারশিপ, অ্যাসোসিয়েশন অব পার্সন্স, ব্যক্তি গোষ্ঠী, আইনানুগ ব্যক্তি (জুরিডিক্যাল পার্সন), মৃত ব্যক্তির এস্টেট, দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তির এস্টেট, ব্যবসার ট্রাস্ট ও লগ্নি ফান্ড।
আইটিআর-৬ এটি প্রযোজ্য সমস্ত লিমিটেড সংস্থার জন্য (আয়কর আইনের ১১ ধারায় যারা ছাড় নেয়, তারা বাদে)।
আইটিআর-৭হল যে সব ব্যক্তি বা সংস্থার ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ১৩৯ (৪এ), ১৩৯ (৪বি), ১৩৯ (৪সি) অথবা ১৩৯ (৪ডি) ধারা প্রযোজ্য হয়ে থাকে।
যখনই রিটার্ন ফাইল করুন না কেন, নির্দিষ্ট কিছু তথ্য অবশ্যই জমা দিতে হবে। তা গুছিয়ে রাখা জরুরি। তা না হলে সমস্যা বাড়তে পারে। যে যে তথ্য গুলি তৈরি রাখা প্রয়োজন তা হল- প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, ফর্ম-১৬ এবং ১৬-এ, ফর্ম-২৬ এএস-এর কপি, কর সাশ্রয়ের লগ্নি সংক্রান্ত তথ্য, সুদ বাবদ আয়-সহ ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং পাসবই, করছাড় পাওয়া যায় এমন সমস্ত খরচের তথ্য, শেয়ার বা ফান্ড বিক্রি করলে তার লাভ বা লোকসানের হিসেব, শেয়ার সহ ডিভিডেন্ডের হিসেব প্রভৃতি। আবার যে সব আয়ে কর নেই তার তথ্যও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে জানা যায়, মোট আয় ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে আইটিআর-২, ৩ এবং ৪ (যেটি প্রযোজ্য হবে)-এর সঙ্গে সম্পদ ও দানের বিবরণ দিয়ে ‘শিডিউল এএল’ জুড়ে দিতে হবে।
এবিষয়ে আরও জানা যায়, রিটার্ন ফাইলের পদ্ধতির জন্য বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া জরুরি। নিজেও বাড়িতে বসেই তা জমা দেওয়া যায়। তার জন্য দরকার শুধু একটি কম্পিউটার। নিজে দেওয়ার জন্য দরকার এই ওয়েবসাইটটিও www.incometaxindiaefiling.gov.in।
আরও বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন: এখানে

