ভারত ও চীনের যৌথ বিবৃতিতে লাদাখে আর নতুন করে বাহিনী নয়
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ভারত ও চীন সমস্যা সমাধানের জন্য খোলামেলা এবং সমস্যার গভীরে গিয়ে আলোচনা করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে ৷ উভয় পক্ষই লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্ররেখায় অতিরিক্ত বাহিনী না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷ এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর কর্পস কম্যান্ডারদের মধ্যে হওয়া ২১ সেপ্টেম্বরের ১৪ ঘণ্টা ম্যারাথন বৈঠকের পর এমনই দাবি করা হয়েছে ৷ সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়াগুলি সফল করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের কর্পস কম্যান্ডারদের মধ্যে সপ্তম দফার বৈঠক করা হবে বলে জানা যায় ৷ সূত্রের খবর, সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে সংঘাত হ্রাস করার জন্য পূর্বের চুক্তিকে সম্মান দিতে ও আসন্ন শীতের মরশুমে চরম প্রতিকূল আবহওয়ার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে চীনের দাবি, চূশূলে ও অন্য জায়গাগুলোর পাহাড় চূড়োগুলি থেকে যেখানে কৌশলগতভাবে ভারতীয় বাহিনী সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে সেখান থেকে সরে যেতে হবে। ভারতও পাল্টা দাবি করে, প্যাংগং লেকের কাছে ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত এলাকাও ফাঁকা করে দিতে হবে চীনা বাহিনীকে ৷ তবে গত তিন সপ্তাহে চূশূল সেক্টরে গুলি চালানোর ঘটনার পর কোনও অবস্থাতেই যেন উত্তেজনা বাড়তে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে উভয়পক্ষই ৷
মস্কোতে ১০ সেপ্টেম্বর উভয় দেশের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পাঁচটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছিল ভারত চীন। এবারের এই বৈঠকে সেই সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর করার উপর জোর দেয় ভারত ৷ পাশাপাশি, কতদিনের মধ্যে মস্কোর বৈঠকে নেওয়া পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে চীন, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমাও দাবি করে ভারত ৷ এখনও যেহেতু প্যাংগং লেকের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্ত সহ লাদাখে সংঘাতের জায়গাগুলিতে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে, ফলে বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাহিনীকে শীতকালেও লাদাখে মোতায়েন করে রাখার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারত ৷ এই বৈঠকের পর সত্যিই চীন শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আগ্রহ দেখায় কিনা, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে কয়েক দিনের মধ্যেই।

