Mamata Bandyopadhyay-10Others 

মমতার মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পাবেন- চলছে জল্পনা

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : হ্যাটট্রিক করে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শপথ নিয়েছেন। এখন মন্ত্রিসভা নিয়ে ভাবনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ বাকি রয়েছে। তৃতীয়বার মমতার মন্ত্রিসভায় কারা কারা জায়গা পাবেন তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকারে এসেছে তৃণমূল। কার-কার ভাগ্যে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ মিলবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো যাঁরা এবারও তৃণমূলের টিকিটে জয় পেয়েছেন সেই সব নেতাদের অনেকেরই এবার মন্ত্রী হওয়ার দরজা খোলা। তথ্য অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, গতবার ৪৪ জনের মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও ৯টি পদ শূন্য ছিল। এবার শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও লক্ষ্মীরতন শুক্লা তৃণমূলে নেই। আবার তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত প্রার্থী উত্তরবঙ্গের দুই তৃণমূল নেতা গৌতম দেব ও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এঁদের মন্ত্রি হওয়ার সুযোগ নেই।

মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে পরেশ অধিকারীর। পুরুলিয়া জেলার শান্তিরাম মাহাতো ও বাঁকুড়ার শ্যামল সাঁতরাও পরাজিত হওয়াতে সেই সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কলকাতায় প্রভাবশালী অল্প সংখ্যক বিজয়ী মুখ এবার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন। মোটামুটি আন্দাজ করা যাচ্ছে, এবার মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, নবীন প্রবীণের ভারসাম্য ও জাতি-সম্প্রদায়ের মতো বিষয়ের ওপর নজর থাকবে। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েকজনের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও মতামত, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে এবার বিজয়ী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্ষীয়ান এই নেতা রাজ্য মন্ত্রিসভায় থাকছেনই এটা বলা যায়। আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে এবার কয়েকজনের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাম আসতে পারে সৌমেন মহাপাত্র ও অখিল গিরির। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর থেকে বিজয়ী হয়েছেন তারকা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই অভিনেতা বাঁকুড়ায় প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এবার তাঁর মন্ত্রী হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হাওড়ার ডোমজুড়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন কল্যাণ ঘোষ। তাঁর নাম নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ক্ষেত্রে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সুজিত বসু থাকবেন মন্ত্রিসভায়। পার্থ ভৌমিকের মন্ত্রিসভায় আসা নিয়ে চর্চা চলছে। হাওড়া জেলা থেকে শিবপুর আসনে বিজয়ী হয়েছেন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। লক্ষ্মীরতন শুক্লার জায়গায় মনোজের মন্ত্রিসভায় প্রবেশের একটা সম্ভাবনা থাকছে।

আবার হাওড়া থেকে মন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছেন অরূপ রায় ও পুলক রায়। মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে মদন মিত্রের। কামারহাটি থেকে জিতে এবার বিধায়ক হয়েছেন। তাঁর মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। মন্ত্রিসভায় থাকার অভিজ্ঞতা-সহ প্রশাসনিক বিষয়ের দক্ষতা রয়েছে। ডেবরা থেকে জয়ী প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর। রাজ্য মন্ত্রিসভায় তাঁর স্থান হতে পারে।

হুগলির পাণ্ডুয়া থেকে জয়ী হন প্রাক্তন সাংসদ রত্না দে নাগ। এই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেত্রী রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে জল্পনা রয়েছে। বেচারাম মান্নার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। প্রাক্তন সাংসদ বিবেক গুপ্তা এবার জোড়াসাঁকো থেকে জয়ী হয়েছেন। বিবেক গুপ্তা রাজ্য মন্ত্রিসভার অংশ হতে পারেন। ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে দুলাল মুর্মু ও বীরবাহা হাঁসদার নাম নিয়েও জোর চর্চা চলছে।

পুরুলিয়া জেলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সুশান্ত মাহাতোর। কংগ্রেসের নেপাল মাহাতোকে পরাজিত করেন তিনি। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে স্বপন দেবনাথও থাকছেন। মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রদীপ মজুমদারেরও। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষি উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। তৃণমূলের দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, অমিত মিত্র এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। অভিজ্ঞতার নিরিখে প্ল্যানিং কমিশনের মতো রাজ্যে যোজনা কমিশন গঠন করে তার চেয়ারম্যান করা হতে পারে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে মলয় ঘটকের মন্ত্রী হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত রয়েছে। জুন মালিয়া ও দেবব্রত মজুমদারকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। তবে কারা কারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন তার সবটাই নির্ভর করবে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেই।

মতামত সহ-লাইক ও শেয়ার করবেন।

Related posts

Leave a Comment