নির্বাচনী পরিক্রমা- জেলা উত্তর ২৪ পরগনা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮ দফা ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি। একুশের এই নির্বাচনে জেলাওয়াড়ি একঝলক ভোট- চিত্র তুলে ধরছি আমরা।
এবারে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলায় আসন সংখ্যা মোট ৩৩টি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট- পঞ্চম দফা (১৭ এপ্রিল) এই দফায় যেসব কেন্দ্রে ভোট হবে সেগুলি হল- পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট-গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট (দক্ষিণ), বসিরহাট (উত্তর) ও হিঙ্গলগঞ্জ। আবার ষষ্ঠ দফা (২২ এপ্রিল) ভোট হবে যেসব কেন্দ্রে সেগুলি হল- বাগদা, বনগাঁ (উত্তর), বনগাঁ (দক্ষিণ), গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙ্গা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, খড়দহ ও দমদম (উত্তর)।
গত বিধানসভা নির্বাচনে যে চিত্র ছিল তা একনজর। বিধানসভা কেন্দ্র ও বিজয়ীরা হলেন- বরানগর- তাপস রায় (তৃণমূল), কামারহাটি- মানস মুখোপাধ্যায় (সিপিএম), পানিহাটি- নির্মল ঘোষ (তৃণমূল), খড়দহ- অমিত মিত্র (তৃণমূল), বারাকপুর- শীলভদ্র দত্ত (তৃণমূল), নোয়াপাড়া- সুনীল সিং (তৃণমূল), জগদ্দল- পরশ দত্ত (তৃণমূল), ভাটপাড়া- পবনকুমার সিং (বিজেপি), নৈহাটি- পার্থ ভৌমিক (তৃণমূল) এবং বীজপুর- শুভ্রাংশু রায় (তৃণমূল)।
বাগদা- দুলালচন্দ্র বর (কংগ্রেস), বনগাঁ (উত্তর)- বিশ্বজিৎ দাস (তৃণমূল), বনগাঁ (দক্ষিণ)- সুরজিৎ কুমার বিশ্বাস (তৃণমূল), গাইঘাটা- পুলিনবিহারী রায় (তৃণমূল), স্বরূপনগর- বীণা মণ্ডল (তৃণমূল), বাদুড়িয়া- আব্দুল রহিম কাজী (কংগ্রেস), হাবড়া- জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (তৃণমূল), অশোকনগর- ধীমান রায় (তৃণমূল), আমডাঙ্গা- রফিকুর রহমান (তৃণমূল), মধ্যমগ্রাম- রথীন ঘোষ (তৃণমূল), বারাসত- চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (তৃণমূল), দেগঙ্গা- রহিমা মণ্ডল (তৃণমূল), হাড়োয়া- মহম্মদ নুরুল ইসলাম (তৃণমূল), মিনাখাঁ- ঊষারাণী মণ্ডল (তৃণমূল), সন্দেশখালি- সুকুমার মাহাত (তৃণমূল), বসিরহাট (উত্তর)- রফিকুল ইসলাম মণ্ডল (সিপিএম), বসিরহাট (দক্ষিণ)- দীপেন্দু বিশ্বাস (তৃণমূল) এবং হিঙ্গলগঞ্জ- দেবেশ মণ্ডল (তৃণমূল)।
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, বারাকপুর, নোয়াপাড়া ও বীজপুরের বিধায়ক বর্তমানে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বাগদা ও বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। আবার বাদুড়িয়া ও বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি বসিরহাট-দক্ষিণের বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন।
জেলা-পরিক্রমা করে স্থানীয় মানুষদের যে দাবি উঠে এসেছে তা হল- কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বড় শিল্পস্থাপনের বিষয়টি সামনে এসেছে। বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ, খড়দহে রেলগেটে ফ্লাইওভার ও পুরনো জুটমিলগুলিকে বাঁচানোর বিষয়টি আলোচনায়।
আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, যশোর রোডে যানজট এড়ানোর জন্য উড়ালপুল, ইছামতী নদী সংস্কার প্রভৃতি বিষয় প্রকাশ্যে। হাসনাবাদ থেকে হিঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত রেল-প্রকল্পের বিষয়টি সামনে এসেছে। বারাসত-সহ কয়েকটি পুরসভা এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার ও ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক, নৈহাটি, বারাকপুর ও খড়দহে আধুনিক মানের স্টেডিয়ামের বিষয় রয়েছে। হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, বারাকপুরে নতুন মহকুমা আদালত ভবন-সহ কয়েকটি বিষয় রয়েছে। আবার নৈহাটিতে নতুন বাস টার্মিনাস, বারাকপুরে পুলিশ মিউজিয়াম, কাঁচরাপাড়া ও খড়দহ পুরসভায় নতুন পানীয় জল প্রকল্প, খড়দহ ও বরানগরে নতুন বৈদ্যুতিক চুল্লি প্রভৃতি বিষয় রয়েছে। একাধিক ফেরিঘাট সংস্কার ও গঙ্গার পাড় সৌন্দর্যায়ন এবং বারাকপুরে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের বিষয়টি সামনে এসেছে।
হাবড়া-অশোকনগরে মেগা টেক্সটাইল পার্ক, হাসনাবাদে বনবিবি সেতু ও স্বরূপনগরের বিলবল্লিতে ফিশারিজ হাব প্রভৃতি বিষয় আলোচনায়। একাধিক নতুন জল প্রকল্প, নোয়াই খাল সংস্কার ও জেলা থেকে আরও বেশি কৃষি পণ্য রপ্তানির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা ও ব্রিজের মতো বিষয়ে নানা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প সেভাবে প্রসারিত হয়নি।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও। বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়েনি এবং গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। মিথ্যা মামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। কর্মহীনতার সংখ্যা বাড়ছে বলেও অভিযোগ। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। সকলের হাতে কাজ, সমান মজুরির দাবি রয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। আম্ফানের ক্ষতিপূরণ ও রেশন নিয়ে দুর্নীতির কিছু অভিযোগ প্রকাশ্যে।
খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

