শ্রীরামকৃষ্ণ ও সাধন পথ

ramkrishna

শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস জগতের কল্যাণে সেবা করেছেন। এই জন্যই তাঁর আবির্ভাব। অনেকে তাঁকে মানুষ বলে থাকেন। অনেকে আবার ঈশ্বর বা অবতার বলে থাকেন। স্রেফ বাংলা ভাষায় স্বল্প কথা বলে জগতের হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বাণী আজ মুখে মুখে ও চলার পথে। কামারপুকুরের গদাই ঠাকুর এক সাধারণ মানুষ। জগৎ সংসারে তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন। প্রাণের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে অন্তরের প্রণাম নিবেদন করেন ও পুজো করেন তাঁর ভক্তরা। ধ্যান, জপ, ভজন ও ঈশ্বরচর্চায় বহু মানুষ মেতে থাকেন। তবে শ্রীরামকৃষ্ণের সাধন পথে কোনও আড়ম্বর ছিল না। অত্যন্ত সাদামাটা তাঁর জীবন। কষ্ট-দুঃখকে জয় করতে পেরেছিলেন। সারদা মা বলেছিলেন,”জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ঠাকুরকে স্মরণ রেখো। তাহলে কোনও কষ্টকে আর কষ্ট বলে মনে হবে না। জীবনে দুঃখ-কষ্ট কার বা নেই?ওসব তো থাকবেই; তার নাম নিলে, তাকে আশ্রয় করলে তিনি শক্তি দেবেন। দুঃখ ও কষ্ট তখন আর তোমার ওপর ছাপ ফেলতে পারবে না। শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক জাগরণের কথা আমরা অনেকেই জানি। স্বার্থপরতা, বৈষম্য, হিংসা, দুর্নীতি সরিয়ে তিনি নতুন এক জগতের সন্ধান দিয়েছেন। মানব জীবনে তার প্রয়োগ হলেই সফলতা মিলবে। পাশাপাশি এই মহা-মানব সকল ধর্মের মিলনের প্রচারকারী। জগতের ক্ষণিক অতিথি হয়ে এসে পাওয়ার কিছু নেই। রয়েছে অনেক কিছু দেওয়ার। স্বামীজি বলে গিয়েছেন, “একমাত্র আধ্যাত্মিক অনুশীলন, একমাত্র উপাসনা, এটিই প্রকৃতপক্ষে উপায় এবং এটিই লক্ষ্য।” সেই দিশাতেই পথচলা শ্রেয়। (ছবি:সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *