সংষ্কারের পর নয়া চেহারায় ভগিনী নিবেদিতার সমাধিক্ষেত্র
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভগিনী নিবেদিতার সমাধিক্ষেত্র এবার নতুন চেহারায়।এই নিয়ে পাহাড়ের নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। আন্দোলনের জেরে বদলে গেল সবকিছু। সংষ্কারের পর ফিরল নতুন চেহারায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, জায়গাটি মুরদাহাটি হলেও স্থানীয়দের কাছে এটা দার্জিলিং শশ্মান বলেও বিশেষ পরিচিত।এই স্থানে পাহাড়ী রাস্তায় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ঘুম স্টেশনের দিকে রওনা হয়। স্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে অযত্নে ও অনাদরে পড়েছিল ওই স্থান। সূত্রের আরও খবর,দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোডের রায় ভিলাতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর ভগিনী নিবেদিতা প্রয়াত হন। ওই রায় ভিলা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়ে। এরপর রাজ্য সরকার ও তৎকালীন জিটিএ’র সহায়তায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে রায় ভিলাকে। সেখানে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রটিতে পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো ছাড়াও নানা রকম কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ের আন্দোলনের সময় এই রায় ভিলাও ভাঙচুর করা হয় বলেও খবর।এমনকী চুরি যায় অনেক জিনিসও। রায় ভিলাতে পর্যটকদের যাতায়াত লেগেই রয়েছে। তবে ভগিনী নিবেদিতার সমাধি স্থান অবহেলার মধ্যেই পড়ে ছিল।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পক্ষ থেকে সন্ন্যাসীরা স্থানীয় পুরসভা, রাজ্য প্রশাসন সহ বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে কাজ হয়নি বলে ক্ষোভ বাড়ে বিভিন্ন মহলে। নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী নিত্যসত্যানন্দজি মহারাজ প্রয়াস নিয়েছিলেন। জঙ্গল এবং আগাছায় ভরে ওঠে ওইস্থান। নিবেদিতার একটি মূর্তি রয়েছে
তাও নোংরা হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা এখন বদলে গিয়েছে। সাজানো হয়েছে স্মৃতি-সৌধ। এই স্থানে নিবেদিতার সমাধি ছাড়াও রয়েছে রাহুল সাংকৃত্যায়ন, নেপালি কবি আগম সিং গিরি, এইচ ডি লামা সহ অনেকের সমাধি। ওই সমাধিগুলোরও একই দশা হয় । এই সব সমাধি সংষ্কারের কাজ শেষ করেছে রামকৃষ্ণ মিশন। স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে বহুবার কথা বলা হয়েছিল। তবে ভক্তদের থেকে সাহায্য নিয়েই এই সমস্ত সমাধিস্থান সংষ্কার করা হয়েছে দ্রুত।

