‘জল সংরক্ষণ দিবসে’ কলকাতা পুরসভার বিশেষ উদ্যোগ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ‘জল সংরক্ষণ দিবসে’ জল অপচয় বন্ধ করে তা সংরক্ষণ করাই এখন মুখ্য উদ্দেশ্য কলকাতা পুরসভার। তাই আজ (১২ জুলাই) জল সংরক্ষণ দিবসে এই সঙ্কল্প পালনে আঁটোসাঁটো পরিকল্পনা করেছে কলকাতা কর্পোরেশন। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রতিদিন প্রায় ১৫৪ কোটি ৮১ লক্ষ লিটার জল কলকাতায় সরবরাহ হয়। কল খুলে রাখা, লিকেজ হওয়া, পাইপ ফেটে যাওয়া প্রভৃতি কারণে অপচয় হয় প্রায় ৩৬ কোটি ৬৪ লক্ষ লিটার জল। এরফলে ১০০ শতাংশ উৎপাদিত জলের ২০ শতাংশ নষ্ট হয় এভাবেই।
পাশাপাশি এই অপচয়ের কারণে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা খরচও হয়ে থাকে। পুরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, কলকাতা পুরসভায় প্রায় ২০ হাজার কল রয়েছে। শহরে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ পুরসভার মাধ্যমে জল পায়। জানা গিয়েছে, শহরের একাধিক জায়গায় জলস্তর কমে গিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলস্তরের মাত্রা জানতে ইতিমধ্যেই পুরসভা লাল, কমলা ও সবুজ কালার কোডেড জোনাল ম্যাপ বানাচ্ছে। এই ম্যাপ দেখলেই বোঝা যাবে কোন এলাকায় জলের পরিমাণ কত রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে আরও খবর, যেখানে জলস্তর সবচেয়ে কম সেখানের ম্যাপের রং হবে লাল। পাশাপাশি যেখানে জল কমতে শুরু করেছে সেখানকার কোড হবে কমলা। অন্যদিকে, যেখানে জলস্তর যথাযথ রয়েছে সেখানে সবুজ কালার কোড ব্যবহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জল অপচয় রুখতে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। যার মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা ও ভাঙা কল সারানোও। আবার পুরসভার গাড়িতে যখন জল ভরা হয় তখন সেটা থেকে যাতে জল অপচয় না হয় সেই বিষয়টাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে দ্য সেন্ট্রাল পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্গানাইজেশন সূত্রে খবর, কলকাতা সহ দিল্লি, মুম্বাইয়ের মতো বড় বড় শহরগুলিতে প্রতিদিন মাথা পিছু ১৫০ লিটার করে জলের প্রয়োজন হয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল ব্যবহার হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিকল্পনামাফিক জল সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদের সম্ভাবনাও থাকছে। তাই রাজ্যে জল অপচয় নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী কলকাতা পুরসভা।
এবিষয়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী বহুবার জল সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে সচেতন করেছেন। পাশাপাশি কেএমসি জল অপচয় রুখতে নানা ব্যবস্থাও নিয়েছে। এবিষয়ে তিনি আরও জানান, সবাইকে হাত জোড় করে বলছি আর জল অপচয় নয়৷

