শ্রীরামকৃষ্ণের প্রজ্ঞাদৃষ্টি : স্বামীজির কর্ম-মুক্তির পথ
অধ্যাত্ম ও সেবার ধারক ও বাহক শ্রীরামকৃষ্ণ। জগৎকল্যাণে তাঁর অভিনব ভূমিকা। ভাবপ্রচারেও শ্রীরামকৃষ্ণ। আধ্যাত্মিক ভাবের যোগ্যতম ব্যক্তিত্ব তিনি । অন্যদিকে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। মানুষের আধ্যাত্মিক নবজাগরণে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। সেই অধ্যাত্ম জগৎকে আদর্শরূপে গ্রহণ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শ্রীরামকৃষ্ণের প্রজ্ঞাদৃষ্টি ছিল। জীবন উদ্ভাসিত হয়েছিল মুক্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির চিন্তায়। যতক্ষণ না জগতের প্রতিটি মানুষ মুক্ত হন, ততক্ষণ তিনি নিজের মুক্তিও কামনা করতে পারেন না। তাঁর একটি বাণী-“সত পথে চলো,সত্য কথা বলো দেখবে সব দুঃখ-কষ্ট ঘুচে গেছে। “
আবার স্বামীজি কঠোর তপশ্চর্যার কথাও বলেছেন । গভীর অধ্যাত্ম সাধনার কথাও তুলে ধরেছেন। মানুষকে সদা সচেতন করে দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন। তাঁর একটি উক্তি হল-“জ্ঞান ভক্তি যোগ এবং কর্ম-মুক্তির এই চারটি পথ। প্রত্যেকের কর্তব্য তার উপযুক্ত পথটি অনুসরণ করা। তবে এই যুগে কর্মযোগের উপরেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।” প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের আমূল পরিবর্তন ঘটানো যায়। সচেতন করে তোলাও যায় । দুঃখ মানুষকে বিচলিত করলেও জগতের মুক্তি ঘটে ত্যাগে ও সেবায়। সেই সেবার ক্ষেত্রটি মানুষকেই তৈরি করে নিতে হয় ।

