ভ্রমণপিপাসুদের মন উরুউরু : ইছামতীর তীরে টাকি ভ্ৰমণ
শীতের আমেজ-মেজাজ ভালোই রয়েছে। এই সময় ভ্ৰমণ বা ঘোরাঘুরিটার মাত্রা বেড়ে যায়। এই শীত পড়লে খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরাঘুরির মজাই আলাদা। অনেক চেনা-জানা জায়গাতে যেতেই পারেন । শীতের সকালে ট্রেন চড়ে বসলেই পৌঁছে যেতে পারেন নদী তীরবর্তী এক মনোরম পরিবেশে। একদিনের ভ্রমণের আদর্শ হতে পারে স্থানটি । ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন সব সময় উরুউরু হয়। কোথাও বেড়াতে না গেলে ব্যস্ত ও কর্মক্লান্ত মনটা হাঁফিয়ে ওঠে। তাই কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে গেলেই মনটা হালকা হয়ে যাবে। সেইরকমই এক ডেস্টিনেশন হল- উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার টাকি।ইছামতীর তীরে অপূর্ব পরিবেশে পিকনিক ও ভ্রমণের আনন্দ অনুভব করতে পারবেন। দেখতে পাবেন সবুজ ঘাসের আস্তরণ। সুবিস্তীর্ণ নদীর চর। নদীর ওপারে দিগন্ত বলয়ে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে এই স্থানটি অন্যতম স্থান দখল করে নিয়েছে।
ইছামতীর তীরবর্তী রাতে-দিনে থাকার জন্য অনেক হোটেল-গেস্ট হাউস ও টুরিস্ট স্পট গড়ে উঠেছে। স্বল্প সময়ের জন্য স-পরিবারে ঘুরে আসার জন্য বসিরহাট টাকির তুলনা নেই। ইছামতী নদী সংলগ্ন এই ভ্ৰমণ কেন্দ্রটিতে আপনি পৌঁছে যাবেন শিয়ালদহ -হাসনাবাদ শাখার ট্রেন ধরে। ট্রেন ছুটলেই বারাসাত জংশন পেরিয়ে গেলেই চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। ফসলের খেত,পুকুর-জলাশয় যেমন দেখতে পাবেন তেমনি ঘাসে ভরা মাঠ,বন-বনানী
আপনার নজরে পড়বে। মাঝে মাঝে বাবলা, কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া প্রভৃতি গাছ আপনাকে অভিবাদন জানাবে। “প্রকৃতি প্রেমিক” বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের কথা আপনার মনে পড়ে যাবে। বসিরহাট স্টেশন এলেই তৈরি হয়ে যাবেন টাকি স্টেশনে নামার জন্য। এই শাখার শেষ স্টেশন হাসনাবাদ।
নির্জন গ্রাম্য টাকি স্টেশন পেরলেই হাসনাবাদ। ইছামতী নদীর বুকে সূর্যাস্তের শোভা আর সূর্যোদয়ের অভিনব দৃশ্য দেখে সত্যিই মন ভরে উঠবে। নদীর পাড়ে এমন মনোরম ছবিটা দেখে মনটা ভালো হয়ে যাবে। গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নদীতে বয়ে চলা নৌকা,মৎস্যজীবীদের মাছ ধরা,ওপার বাংলার ছবিটা দেখতে পাবেন। ভ্রমণ পিপাসুরা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতেই পারেন। ফুচকার স্টল থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়ার হোটেল সবই পাবেন। ইছামতী নদীর ছোট ছোট ঢেউ আর মিষ্টি হাওয়ায় সুন্দর একটি দিন কাটাতে পারবেন। (ছবিঃ সংগৃহীত)

