Thyroid ProblemsOthers 

থাইরয়েডের সমস্যা সমাধানে চিকিৎসকদের গাইড

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : থাইরয়েডের সমস্যা এখন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য, খুব ঘুম পায়, চুল পড়ছে, দেহের ওজন বাড়ছে, আলস্য চেপে ধরছে বা দুর্বল লাগছে প্রভৃতি দেখা দিলে সাবধান হতে হবে। আবার মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিওডের কোনও সমস্যা দেখা দিলে বা এই সব লক্ষণ থাকলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের গন্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সব লক্ষণগুলির দু-একটি দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শে থাইরয়েড টেস্ট করানো দরকার।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, ব্ল্যাড সুগারের মতো রান্ডম টেস্টের সব সময় দরকার হয় না। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা মহিলাদের তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বংশগত- মা-মাসি-দিদিমার থাকলে এটা হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। এটির অবস্থান গলার সামনের দিকে। এই গ্রন্থির আকারগত বা ক্ষরণগত ত্রুটি থেকে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির অতি সক্রিয়তা বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম সক্রিয়তায় থাইরয়েড ডিজিজ হতে পারে। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, এই গ্রন্থিতে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় টি-থ্রি ও টি-ফোর হরমোন তৈরি হয় এবং তার জন্য আইয়োডিন লাগে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এই গ্রন্থির কাজ মস্তিষ্ক থেকে ফিড ব্যাক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়। থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ রক্তে কমে গেলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে থাইরোট্টপিন রিলিজিং হরমোন (টিআরএইচ) নিসৃঃত হয়। এটি পিটিউইটারি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে টিএসএইচ বা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন ক্ষরণ করাতে থাকে। এরপর এই টিএসএইচ থাইরয়েড গ্ল্যান্ডকে থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ করতে অ্যাকটিভেট করে। তার কারণে পিটিউইটারি বা হাইপোথ্যালামাসের সমস্যা থেকেও থাইরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে বডি মেটাবলিজম বা শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য থাইরয়েড হরমোন জরুরি। কোনও কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড স্ফীত হয়ে উঠলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। থাইরয়েড রোগে স্বরভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে গলার আওয়াজ পরীক্ষা করেন। উল্লেখ করা যায়, থাইরয়েড সমস্যা নানাবিধ যেমন- হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, গয়টার প্রভৃতি। এমনকী থাইরয়েড নডিউলস এবং ক্যান্সারও হতে পারে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরও বলছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম মানে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে হরমোনের কম উৎপাদন।

এর অনেক কারণ হতে পারে। অটোইমিউন ডিজওডার এই গ্রন্থির রিমুভ্যাল বা কেটে বাদ যাওয়া, মেডিকেশন, পিটিউইটারির রোগ ও শরীরে আয়োডিনের অভাব। হাইপোথাইরয়েড রোগের লক্ষণ, শরীরের ওজন বৃদ্ধি, মানসিক অবসাদ, অলসতা, চুল পড়া, স্মৃতি বিভ্রম, খসখসে ত্বক, কনস্টিপেশন ও শীতভাব প্রভৃতি। রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি থাইরয়েড প্রোফাইল পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা হল- চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া। সারা জীবন ওষুধ খেতে হতেও পারে। আবার বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসা না করালে আরও জটিল হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডের ফলে শরীরের অন্য অর্গানগুলিও প্রভাবিত করে থাকে।

Related posts

Leave a Comment