মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা-অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সোচ্চার দু-পক্ষ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরব তৃণমূল-বিজেপি। জমি ছাড়তে নারাজ দু-পক্ষ। পঞ্চম দফা ভোটের আগে আরও সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় বিজেপি। আজ দমদমের সভা থেকে আনন্দ বর্মনের মৃত্যুর জন্য সরাসরি বিজেপিকেই দায়ী করলেন তৃণমূল নেত্রী। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য,”ভোটের দিন যে রাজবংশী ছেলেটা মারা গিয়েছে। তাঁকে নিজেই মেরেছে বিজেপি।” উল্লেখ করা যায়,শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
অন্যদিকে পালটা অভিযোগ করে অমিত শাহের মন্তব্য,”শীতলকুচিতে নিহত রাজবংশী যুবক আনন্দ বর্মনকে নিহতদের তালিকায় রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ আনন্দর পরিবারেও সন্তান হারানোর শোক রয়েছে। আপনি মৃত্যুতেও মেরুকরণ করছেন।” শীতলকুচি কাণ্ডে মমতার বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি দাবি করলেন,”শীতলকুচিতে ৪ জনের মৃত্যুতে মমতাজি এত শোকপ্রকাশ করছেন, কিন্তু ওই দিন যে আনন্দ বর্মন নামে এক রাজবংশী ছেলেও প্রাণ হারিয়েছেন, সে কথা তো উনি ভুলেই গিয়েছেন। এক বিন্দু অশ্রুপাত করেননি তাঁর জন্য।” এরপরই এই ঘটনায় সরব হয় তৃণমূল। মমতার সভামঞ্চে “শহিদ” তালিকায় আনন্দ বর্মনের নাম থাকার ছবি দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতারক ও মিথ্যাবাদী বলে সোচ্চার হয় শাসক দল।
নির্বাচনী সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য, “আমাকে রাজবংশী নিয়ে কথা বলছে। জ্ঞান দিচ্ছে। নিজেদের দলের কর্মীদেরই নিজেরা মেরে ফেলে রাজনীতি করে। লজ্জা করে না। রাজবংশী মানুষজন আমার পরিবার। তাঁরা জানে আমি তাঁদের জন্য কী করেছি।”
অন্যদিকে মতুয়া-আদিবাসী মানুষদের বঞ্চনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে মন্তব্য করেছেন, “মতুয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ করছি বিজেপিকে। দল, সভাপতি, গোঁসাইদের কাছে জানতে চাইছি, আমি যদি কিছু না করে থাকি আপনাদের জন্য, তাহলে আমি ইস্তফা দিয়ে চলে যাব। আর যদি মোদিবাবু মিথ্যা বলেন, তাহলে ওনাকে ওঠবোস করতে হবে।”
পঞ্চম দফায় ভোটের আগে দমদমে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় ৬টি জেলার ৪৫টি আসনে ভোট রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে জনসভায় নাম না করে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিশানা করলেন তৃণমূলনেত্রী। এক্ষেত্রে তাঁর মন্তব্য, “ওদের বড় বড় নেতা হয়েছে। তাঁরা নাকি গোখরো সাপ, কেউটে সাপ। তোমাকে একদিন এম পি করেছিল টিএমসি। অত বড় বড় কথা বলো না। পারলে খেয়ে যেও রেশনের মোটা চালের ভাত।”
উল্লেখ করা যায়, শীতলকুচির ঘটনায় নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় প্রচারে শীতলকুচির ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন মমতার বিরুদ্ধে। এই সব ফাঁদে যেন কেউ পা না দেন,এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। এই ঘটনার পর “গণতন্ত্রের কালো দিন” বলে মন্তব্য করেছে তৃণমূল। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল। আজ ১২ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে আগামিকাল, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে ৷ এই সময়ের মধ্যে ভোট প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের নেতা ও কর্মী সমর্থকরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে অভিযোগ, ভোট প্রচারে আপত্তিকর মন্তব্য করে আদর্শ আচরণ বিধি ভাঙছেন তৃণমূল নেত্রী। কমিশনের সমালোচনায় সরব হয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এটি আমাদের গণতন্ত্রে একটি কালো দিন।”
মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

