7th phase and mamataOthers Politics 

ভার্চুয়াল প্রচারেও স্ব-মহিমায় তৃণমূল নেত্রী

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে ভোট। নিজের কেন্দ্র ছেড়ে এবার নন্দীগ্রামে লড়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে বিজেপির সর্বশক্তি প্রয়োগ। বাংলার ভোটের প্রচার পর্ব শেষ। নবান্ন দখলের যুদ্ধে গোটা প্রচার পর্বেই হুইল চেয়ারে প্রচার সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“সোনার বাংলা”র স্বপ্ন দেখিয়ে বিজেপির প্রচার। ২০০ আসনের দাবি প্রথম থেকেই জোরালো গেরুয়া শিবিরের। এই অবস্থায় তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখবে তৃণমূলই। এবার একুশের ভোটযুদ্ধে “রঙ্গে ভরা বঙ্গ” ছিল। একেবারে শেষ লগ্নে একই দাবিতে অনড় থাকলেন তৃণমূল নেত্রী।

তাঁর মন্তব্য,”মা মাটি মানুষের সরকার সম্পূর্ণ মেজরিটি নিয়ে জিতবে” । তাঁর দল থেকে যে সমস্ত “গদ্দার”,”‘মীরজাফর”রা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন তাঁদের জন্য বার্তা- “সবাইকে ক্ষমা করতে পারি। কিন্তু গদ্দারদের ক্ষমা করব না।”ক্ষমতার আসার পর তিনি যে আর তাঁদের জন্য দলের দরজা খুলবেন না, তাও স্পষ্ট করেছেন। মিনার্ভা থিয়েটারের ভার্চুয়াল সভায় তাঁর এই মন্তব্য।

নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে শুভেন্দুর নাম না করে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য,”নন্দীগ্রামে ১০টা বুথে ওরা রিগিং করেছে। তাই ওই দশটা বুথেই শুধু ফল খারাপ হতে পারে। কিন্তু বাকি সব বুথে ধপাস ধপাস করে পড়বে ওরা।”

করোনা পরিস্থিতির আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী। নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনের সুরে তাঁর মন্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানে এসে জায়গা দখল করে রেখে দিয়েছে। তিন মাস ধরে ওদের এখানে এনে জায়গা ভরিয়ে রেখেছে বিজেপি। ওদের জন্য এই করোনার মধ্যেও সেফ হাউস করতে পারছি না। কমিশনকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এদের নিয়ে যান।”

হুইলচেয়ারে বসেই শেষ ভার্চুয়াল প্রচার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনার্ভা থিয়েটারে প্রচারের শেষ দিনেও সেই চেনা জেদ ধরা পড়ল। উল্লেখ্য, বাংলার গোটা নির্বাচন পর্বে কার্যত একা লড়ে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্বমহিমায়। দুই দশকের আগের সেই তরুণী-“অগ্নিকন্যা”। বয়স কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

প্রসঙ্গত,ইতিপূর্বে নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এই কোভিড পরিস্থিতির জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্টের পক্ষ থেকে কমিশনকেই দায়ী করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী সেই রায় তুলে ধরলেন। কমিশনের পরিকল্পনা ও পক্ষপাত নিয়ে সরব হলেন। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, “মাদ্রাস হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেছে, নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না। নির্বাচন কমিশনকে তৃতীয় দফা থেকে বলছি সংযুক্তিকরণ চাই। কমিশন শোনেনি, কারণ ভোট হয়েছে বিজেপির মণ্ডল ধরে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কেরল এক দফায় ভোট, তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট, আসামে দুই দফায় ভোট, তাহলে বাংলায় আটটা দফা কেন?” এছাড়া “ভোটের পর সুপ্রিম কোর্ট যাব” বলেও মন্তব্য তাঁর। তবে ২ মে ফলাফল বের হলেই ছবিটা স্পষ্ট হবে।

মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

Related posts

Leave a Comment