বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ আজ বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস। আজকের দিনটিকে ইথার ডেও বলা হয়ে থাকে। ১৮৪৬ সালে ডায়েথেল ইথার প্রথম অ্যানাস্থেসিয়ার সফল প্রয়োগ করেন। তাঁকেই স্মরণ করে দিনটি অ্যানাস্থেসিয়া দিবস হিসাবে পালন করা হয়। যে কোনও অপারেশনের আগে রোগীকে যন্ত্রনার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যদি এই অ্যানাস্থেসিয়া সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হয় তবে তাতে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। স্থানীয় অ্যানাস্থেসিয়ার প্রয়োগ সাধারণত বেশি হয়।
অ্যানাস্থেসিয়ার ফলে অপারেশনের সময়, রোগী কোনও ব্যথা বা কষ্ট অনুভব করেন না, এজন্য তার শরীরের কিছু অংশ কিছু সময়ের জন্য অসাড় হয়ে পড়ে। এই পদ্ধতিটি রোগীর পক্ষে আরামদায়ক এবং নিরাপদ। কারণ অপারেশনের পরে রোগী কম ব্যথা অনুভব করেন। আটকে থাকলে বা কোথাও কেটে গেলে অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না। তবে দাঁত যদি তুলতে হয় এবং তার ফলে যদি কাটাছেড়া করতে হয় তবে অবশ্যই অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করতে হবে। অপারেশনের পর ব্যথা যদি গুরুতর হয় তবে তা কমাতে অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করা উচিত। অপারেশনের পরে অতিরিক্ত উদ্বেগ রোধ করতে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও অপারেশন মানে রক্তপাত এবং অ্যানাস্থেসিয়া সেই ব্যথা থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
কোনও অপারেশন করার আগে ডাক্তারের কাছে রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বর্ণনা করা উচিত। কারোরও কোনও অ্যালার্জি আছে কিনা। অ্যানাস্থেসিয়ার মাত্রা কেবলমাত্র ওষুধ, অ্যালকোহল, ধূমপানের অভ্যাস, পূর্ববর্তী অপারেশন এবং রোগ দেখে নির্ধারিত হয়। তাছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে। অ্যানাস্থেসিয়ার আগে কত জল এবং খাবার পান করতে হবে তাও ডাক্তার জানিয়ে দেয়। রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদির ওপর অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়া নির্ভর করে। আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যানাস্থেসিয়া স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। অ্যানাস্থেসিয়া মস্তিস্কে সংকেত প্রেরণে স্নায়ুগুলিকে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্ক কোনও ব্যথা অনুভব করতে পারে না।

