বাংলা ভাষা ভারতের অন্যতম ধ্রুপদী ভাষা
১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। ঘোষণা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্যে পালাবদলের পর গেরুয়া সরকারের এই ঘোষণা ঘিরে জোর চর্চা চলেছে। এতদিন পর এই ভাবনাটা নিয়ে জনমানসে নানা প্রতিক্রিয়াও শোনা যাচ্ছে। একটা মহলের মতামত ও ভাবনাটা সামনে আনতে চলেছি অবশ্যই নজর রাখুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিল। বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল বাংলাকে। অন্যদিকে ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে বাংলা ভাষা-কে বিশ্ব মানচিত্রে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী করেছিল। উনিশ শতকের দিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,রাজা রামমোহন রায় ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলা গদ্যের এক যুগান্তর ঘটেছিল। উনিশ শতকের দিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলা গদ্যের সূচনা হয় ও তা রূপ পায়। পাশাপাশি ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাঙালি রক্তের বিনিময়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল। মাতৃভাষা দিবস সাড়ম্বরে পালিত হোক এই প্রত্যাশা থাকুক। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর। ভারত সরকার বাংলা ভাষাকে ভারতের অন্যতম ধ্রুপদী ভাষা (Classical Language) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তথ্য বলছে,সমগ্র বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত মাতৃভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বাংলা ভাষা।
এবার একটু নজর দিয়ে দেখুন, বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসার ঠিক কতখানি? ভৌগোলিক অবস্থান ও ব্যবহার অনুযায়ী বর্তমানে বাংলা ভাষা বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের মুখের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের যেমন পশ্চিমবঙ্গের ভাষা বাংলা। তেমনি ত্রিপুরা ও আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষাও বাংলা। আবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাঙালিরা রক্ত দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ভাষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে,প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। মূলত মাগধী প্রাকৃত ও পালি ভাষার বিবর্তিত রূপ। বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সমৃদ্ধশালী ভাষা হিসেবে পরিচয় বহন করে। সংস্কৃত থেকে বাংলার উৎপত্তি এমন জনশ্রুতি রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত রূপ হলো “চর্যাপদ” বা “চর্যাগীতি”। মধ্যযুগে বাংলা ভাষার ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটে। এই সময়ে বাংলায় রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের মতো ধর্মীয় গ্রন্থগুলো অনুবাদ করা হয়। বৈষ্ণব পদাবলী ও মঙ্গলকাব্যের মতো সাহিত্য রচিত হয়।

