দুই প্রজন্মের তুলনা টেনে তৈরি হল স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি -“বোধোদয়”‘
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:দুই প্রজন্মের তুলনা। এই বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি -“বোধোদয়”‘। শব্দের অর্থ বোধের উদয়। সূত্রের খবর, ৯ থেকে ১২ সেকেণ্ডের এই ছবি। শিলিগুড়ির দুই তরুণ পরিচালক দীপ সাহা ও সায়ন এই ছবি তৈরি করেছেন। নতুন প্রজন্মের ছেলে – মেয়ে মানেই খারাপ,এমন একটা ধারণা সমাজে রয়েছে। আচার-আচরণ, ব্যবহার ও বড়দের সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে সব কিছুই যেন খারাপ,এরকম বোঝানো হয়। এই ভাবনা ঠিক নয়। এমনই বিষয় নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই ছবিতে। এই ছবির বিষয়ে জানা গিয়েছে, এক বাড়িতে ৭০ বয়সী এক ব্যক্তি একাই থাকেন।এই প্রজন্মের কাউকেই তাঁর যেন ভালো লাগে না। কারও সঙ্গে মেশাও পছন্দ করেন না। জীবনের শেষ বয়সে এসে বড় একা তিনি।
বাড়ি থেকে বের হলে পাড়ার যুবক ছেলেরা নানাভাবে কটূক্তি করে। তা হজম করেই ফিরতে হয় ঘরে। সামনে রয়েছে মহালয়া। ঘরে পড়ে থাকা রেডিওটা মহালয়া শুনতে সারাই করতে হবে। বের হলেন ওই বয়স্ক ভদ্রলোক। হাতে রয়েছে পুরনো রেডিওটি। ঘর থেকে বের হতেই পাড়ার কয়েকজন যুবক আবার তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। রেডিও সারাই হবে না সহ নানা টিপ্পনিও শুনতে হয়। গম্ভীর মুখে ওই ভদ্রলোক সেখান থেকে দোকানে গেলেও মেকানিক রেডিও সারাই হবে না বলে জানিয়ে দেন। রাত গত হলেই মহালয়া। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের সেই কণ্ঠ এবার আর শুনতে পারবেন না বলে আক্ষেপ বেড়েছে।
মহালয়ার সকালে ওই পাড়ার যুবকেরাই উপস্থিত তাঁর ঘরে। এরপর বৃদ্ধের ভুল ভাঙল। নতুন প্রজন্মের সবাই খারাপ নয়,এমনটা ধারণা হল তাঁর। ভালো মনের যুবকরাও সমাজে রয়েছে। তৈরি হল বোধোদয়। দু’প্রজন্মের মধ্যে ব্যবধান নিয়ে অনেক ভাবনা-চিন্তা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে,ছবির শ্যুটিং হয়েছে গজলডোবা, গুলমা চা বাগান, ঘোগোমালি বাজার সহ কয়েকটি এলাকায়। ১০ থেকে ১২ জনের একটি টিম হয়ে কাজটি করা হয়েছে জানা যায়। শিলিগুড়িতে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই।

