লৌকিক দেবী ভাদুর আরাধনায় মাতলো পুরুলিয়া

bhadu purulia

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:স্থানীয়ভাবে জানা যায়,ভদ্রেশ্বরীই আসলে হল ভাদু। পুরুলিয়ার গানের উৎসব করোনার আবহেও সচল। সূত্রের খবর,জেলা ব্যাপী লৌকিক দেবী ভাদুর আরাধনা করা হয়ে থাকে।এখানে কয়েক শতাব্দী ধরে লৌকিক দেবী ভাদু পূজিতা হয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,পুরুলিয়ার অন্যতম ভাদু উৎসবে মাতলো এই জেলা। এ এক পরিচিত ছবি। প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তির আগের দিন ভাদু উৎসবে মেতে ওঠে এখানকার মানুষ। এ বছর উৎসবের জৌলুস অনেক কমেছে। এই উৎসব পালিত হচ্ছে কাশিপুর রাজপরিবার থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। ভাদুর চেনা সুর ভেসে চলেছে পুরুলিয়ায়। আবার ভাদুর নামে অ্যাপ বানিয়ে ভাদুর গান গাইছে স্থানীয় শিল্পীরা।
তবে এই উৎসব নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সব থেকে বেশি প্রচলিত হল- কাশিপুর রাজ পরিবারের আদরের কন্যা ভদ্রেশ্বরী।
এক্ষেত্রে কথিত রয়েছে, খুব অল্প বয়সেই ভদ্রেশ্বরীর অকাল মৃত্যু হয়। রূপবতী ও গুণবতী ভদ্রেশ্বরীর মৃত্যুর খবরে ভেঙ্গে পড়েছিলেন রাজা। মূলত ভদ্রেশ্বরীর স্মৃতিরক্ষায় ভাদ্র সংক্রান্তির আগের দিন বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। এরপর মূর্তি গড়ে শুরু হয় ভাদুর আরাধনাও। বৈদিক কোনও মন্ত্র উচ্চারণ এখানে চলে না। গানের মাধ্যমে ভাদু পুজো করা হয়ে থাকে। কাশিপুর রাজপরিবারে ভাদু পুজোয় গান করার প্রচলন এখনও রয়েছে। অন্যদিকে ভাদুকে বাড়ির কন্যা হিসেবে দেখা হলেও মূর্তির সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় দেবী লক্ষীর। পুরুলিয়ার ফসল ক্ষেতে এখন ধান। লৌকিক এই দেবী ভাদুকে আরাধনার মাধ্যমে ভাল ফসলের কামনাও চলে। বাড়ির মহিলারা এই কাজে মেতে ওঠে। গানের মাধ্যমে ফুটে ওঠে চাওয়া- পাওয়া সুখ দুঃখের কথা ও কাহিনী। ভাদু আজ হয়ে উঠেছে ঘরের মেয়ে ভদ্রেশ্বরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *