tarun majumder and memoriesEducation Others 

তারাদের দেশে তরুণ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: তারাদের দেশে চলে গেলেন তরুণ মজুমদার । ” ছবি কিন্তু হবে…” এই বার্তা দিয়ে গিয়েছেন জীবনের শেষ মুহূর্তেও। ৯১ বছর বয়সেও ছবি তৈরির অনুপ্রেরণা ছিল তাঁর মধ্যে। ১৯৩১ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক ছিলেন তিনি। সবসময় নতুনদের অভিনয়ে সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর দক্ষতার গুণে সব ছবিই সিনেম্যাটিক হয়ে উঠেছে। এককথায় বাংলা সিনেমার স্তম্ভ চলে গেলেন। প্রথম ছবি-“চাওয়া-পাওয়া” । ১৯৫৯ সালে এই ছবিটি নির্মিত হয়।

১৯৬৫ সালে প্রথম একক পরিচালনা-“আলোর পিপাসা” । জনপ্রিয় ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল-“বালিকা বধূ” (১৯৬৭),”শ্রীমান পৃথ্বীরাজ” (১৯৭৩),”পলাতক”(১৯৬৩),”নিমন্ত্রণ” (১৯৭১),”কুহেলি” (১৯৭১),”দাদার কীতি” (১৯৮০),”গণদেবতা”(১৯৭৮),”ফুলেশ্বরী” (১৯৭৪) ও “আলো” (২০০৩) প্রভৃতি।

জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৪ বার। “কাঁচের স্বর্গ” (১৯৬৩),”নিমন্ত্রণ” (১৯৭২), “গণদেবতা”(১৯৭৯) ও “অরণ্য আমার” (১৯৮৪) । ১৯৯০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। জীবন-কৃতি সম্মান পেয়েছেন ২ বার। ২০১৭ ও ২০২১ সালে। সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছেন। “বনপলাশীর পদাবলী” (১৯৭৪) । সেরা গীতিকারের পুরস্কার “পরশমণি” (১৯৮৯)।

তাঁর হাত ধরে বহু নতুন অভিনেতার জন্ম হয়েছে। শুটিং ফ্লোরে সব কিছু নখদর্পণে থাকত। সিনেমাকে সন্তানের মতো ধারণ করতেন। পিতা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েছিল। ছিলেন মুক্তমনা-বামপন্থী। রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলনও দেখা গিয়েছে তাঁর জীবনে। অন্তিম যাত্রায় তরুণ মজুমদারের বুকে গীতাঞ্জলী। চলে গেলেন প্রখ্যাত এক পরিচালক। কড়া নিয়মে বাঁধা তাঁর সৃষ্টি রয়ে যাবে আজীবন। কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁর ছবি দেখে মুগ্ধ হবেন দর্শকরা।

Related posts

Leave a Comment