বইয়ের পাঠক ও পাঠকের বই
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমেছে। আধুনিক এই যুগে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে সমগ্র বিশ্বে। অত্যাধুনিক মোবাইল ব্যবহারে পড়ার অভ্যাস কমে গিয়ে দেখার অভ্যাসটা বেড়ে গিয়েছে,বিশেষজ্ঞদের এমনই অভিমত। গোটা বিশ্বে প্রতিদিন বই পড়ার পাঠক কমছে। ব্রিটিশ লেখক হাওয়ার্ড জ্যাকবসন উদ্বেগের ছবি তুলে ধরেছেন।
তাঁর আশঙ্কা,অতিরিক্ত স্মার্ট ফোনের ব্যবহার মূর্খ করে তুলবে প্রজন্মকে। আগামী কয়েক বছরে বই পড়ার অভ্যাস কমিয়ে তুলবে দারুনভাবে। ব্রিটিশ লেখকের এই মন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন অনেকেই। তবে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সত্যিই ভাবনার দিন এসে গিয়েছে বোধহয়। ক্রমশ বিশ্বে বই পত্র-পত্রিকা পড়ার মানুষের সংখ্যা কমছে। বিক্রির নিরিখে তার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে। এক কথায় উদ্বিগ্ন প্রকাশক মহল।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিক তা আমরা সবাই স্বীকার করি। পাঠক মহলে রবীন্দ্রনাথ চর্চা হলেও ক্রমশ পড়ার মানুষের সংখ্যা কমে আসছে। রবীন্দ্র অনুরাগী মানুষ রয়েছেন তা সত্য। রবীন্দ্র পাঠক কমছে প্রতিদিন প্রতিক্ষণে,এমনটাই বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন। বই পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো… ।
অন্যদিকে ইংরেজ ঔপন্যাসিক-নাট্যকার ও লেখক ডব্লিউ সমারসেট বলেছেন, “পড়ার অভ্যাস অর্জন করা মানে জীবনের প্রায় সমস্ত দুঃখ-কষ্ট থেকে নিজের জন্য আশ্রয় তৈরি করা ।” পাশাপাশি জনপ্রিয় ইউরোপীয় দার্শনিক স্পিনোজা বই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন,”ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভর্তি করে, কিন্ত ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে ।” আবার বিখ্যাত ইংরেজ কবি এলিজাবেথ ব্যারেট বলেছেন,”ভালো বইয়ের সাহচর্য রয়েছে এমন কোন মানুষকে বন্ধুহীন বলা যায় না ।”
বিশিষ্ট ইংরেজ সাহিত্যিক চার্লস ল্যাম্ব-এর কথায়, “বই পড়তে যে ভালোবাসে, তার শত্রু কম ।” আমেরিকান সাংবাদিক -ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বইয়ের বিষয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, “বইয়ের মত এত বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই ।” ফরাসি সাহিত্যিক-রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মী ভিক্টর হুগো-র বই প্রসঙ্গে মন্তব্যটি উল্লেখ না করলেই নয়। তাঁর মন্তব্য,”বই বিশ্বাসের অঙ্গ, বই মানব সমাজকে টিকিয়ে রাখবার জন্য জ্ঞান দান করে । বই হল সভ্যতার রক্ষাকবচ ।” (ছবি: সংগৃহীত)

