ভোট যুদ্ধে সামিল দুই অভিনেত্রী : নজরকাড়া কেন্দ্র হুগলি
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে নজরকাড়া কেন্দ্র হুগলির আসনটি। এই কেন্দ্রে লড়াইয়ে সামিল বাংলার দুই অভিনেত্রী। একদিকে বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম শিবিরের পক্ষ থেকে সিপিএম প্রার্থী মনদীপ ঘোষ। এসইউসিআই প্রার্থী হয়েসেন প্রণব মজুমদার। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির জেলা হিসেবে পরিচয় বহন করে এই হুগলি জেলা। ঐতিহ্যবাহী জেলা তা বলাই যায়। প্রাচীন কিছু দেবালয় সহ পুণ্যতীর্থ ত্রিবেণীর অবস্থান। হুগলির বুকেই প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল “বন্দেমাতরম”।
এখানকার সিঙ্গুর আজও রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু। জেলাটি শিল্প ও কৃষিবলয়ে আবর্তিত।
একঝলকে দেখে নেওয়া যাক হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা
কেন্দ্রগুলি। সিঙ্গুর,চন্দননগর, চুঁচুড়া,বলাগড়,পাণ্ডুয়া,সপ্তগ্রাম ও ধনেখালি।
গত লোকসভায় এই কেন্দ্রটিতে বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন ছিল ৭৩ হাজার ৩৬২। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে হুগলির এই আসনে লকেট ভোট পান ৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৬। ৪৬.০৩ শতাংশ ভোট পান বিজেপি প্রার্থী। তিনি পরাজিত করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী রত্না দে নাগকে। রত্না দেবীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৬। ৪১শতাংশ ভোট এই তৃণমূল প্রার্থী।
ওই নির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী প্রদীপ সাহা ভোট পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২১ হাজার ৫৮৮। একটু পিছনে তাকালে দেখা যাবে,এই কেন্দ্রটিতে ২০১৪ সালের লোকসভায় জয়ী হন তৃণমূলের প্রতীকে রত্না দে নাগ। ওই নির্বাচনে ৪৫.৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রদীপ সাহাকে হারিয়েছিলেন তিনি। বাম প্রার্থী প্রদীপ সাহার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩১.৫২ শতাংশ। ওই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী চন্দন মিত্র ১৬.৪০ শতাংশ ভোট পান। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন রত্না দে নাগ। সেই সময় তাঁর প্রতিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন বামফ্রন্টের রূপচাঁদ পাল। এই আসনে তখন বিজেপি প্রার্থী চুনীলাল চক্রবর্তী ৩.৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে হুগলির রাজনৈতিক আবহে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পঞ্চম দফায় ২০ মে এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ২০২৪ লোকসভার এই আসনটিতে দুই অভিনেত্রীর নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে । সিঙ্গুর প্রচারের আলোয় আছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম বিজেপি-তৃণমূল। এই লোকসভা এলাকার মানুষই ঠিক করবেন কাকে বেছে নেবেন। তবে রাজনীতিতে অনেকটাই পক্ক হয়ে উঠেছেন দিদি নম্বর ওয়ান
খ্যাত রচনার চেয়ে বিজেপি প্রার্থী লকেট,এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

