দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে সাবধান
অম্বল ও গলা-বুক জ্বালা প্রভৃতি উপসর্গ বাড়ছে। এমন সমস্যা যদি অনেক দিনের হয় তাহলে অন্য সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার রিফ্লাক্সের পর্যায়ে চলে যেতে পারে এটি । লিভার রিফ্লাক্স কী তা অনেকেই জানেন না। শরীরের তেমন কোনও লক্ষণ দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, খাওয়া-দাওয়া করেই শুয়ে পড়া উচিত নয়। শরীরে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বুকজ্বালা করা, চোঁয়া ঢেকুর, অম্বল প্রভৃতি উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে। এই গলা-বুক জ্বালা প্রভৃতি সমস্যা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে তাহলে এটা সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তা হল- “গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ়”। যা-কে অ্যাসিড রিফ্লাক্সও বলা হয়ে থাকে। এর এক পর্যায় “লিভার রিফ্লাক্স”। লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্ত খাদ্যনালী হয়ে উর্দ্ধমুখী উঠতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে আবার লিভার রিফ্লাক্সকে “বাইল রিফ্লাক্স” বলা হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে এই সমস্যা অনেকেরই হয়। লক্ষণ বোঝা যায় না বলে তার সঠিক চিকিৎসাও সেভাবে হয় না। ক্রমশ রোগটি শরীরের মধ্যে বাড়তে থাকে। হজমের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়। পরবর্তী সময়ে পাকস্থলী ও লিভার থেকে অম্ল রস উপরে উঠে আসে। আলসারের লক্ষণও দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কী কী লক্ষণ দেখে চিকিৎসকদের কাছে যাবেন, তা একনজর
জেনে নেওয়া যাক। কিছু খেলে গলা বুক জ্বালা করলে। অম্বল, পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়তে থাকলে, পেট ভার ও খিদে কমে গেলে,
গলা জ্বালা, গলায় ব্যথা, বমি বমি ভাব দেখা দিলে ও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে আলসার, পেট ব্যথা এবং ওজন হ্রাসও হতে পারে।
এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ হল- শরীরের ওজন কমাতে হবে। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভাজাভুজি, তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়া চলবে না। প্রক্রিয়াজাত কোনও রকম খাবার, নরম পানীয়, অ্যালকোহল প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপান বা নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে বিরত থাকতে হবে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে খাবার খেয়ে নিতে হবে। রাতে গরম দুধ, চা কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। লিভার রিফ্লাক্স থেকে হার্নিয়ার সমস্যাও হতে পারে। অনেকক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো অস্ত্রোপচারও করার প্রয়োজন হতে পারে।

