নারীকে সম্মান শুধু শিক্ষা নয় নৈতিক দায়িত্ব
“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” এই গানের কথাটি অনেকেই শুনেছেন। লালন ফকিরের ভাবনাটিকে সেই আলোর বৃত্তে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সাধনার মূল কথা হলো-মানুষের মধ্যে মানুষকে খুঁজে পাওয়া, অন্তরের সত্যকে চিনতে- জানতে শিখতে হবে। নারী শক্তি আমাদের সমাজের পথকে আলোকিত করে। মা আমাদের পথ দেখায়। বেঁচে থাকার রসদ জোগায়। মনে রাখতে হবে-নারীকে কেবলমাত্র “দেহ” হিসেবে দেখা মানে মাতৃশক্তির অস্তিত্বকে অসম্পূর্ণ করে দেখা।
শাস্ত্রীয় পণ্ডিত ও বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, নারীকে কাম মনোবৃত্তি দিয়ে দেখা নয়, মাতৃশক্তির হৃদয়ের দিকে দেখলে মানুষ দেখা যায়। অন্যদিকে গভীর দর্শনের চোখে দেখলে দেখা যাবে-সৃষ্টির গভীর রহস্য। মাতৃগর্ভ কেবলমাত্র জন্মের স্থান নয়, এটি মানুষের অস্তিত্বের প্রথম আশ্রয়ের প্রতীক রূপে দেখা হয়। একটু চিন্তা করে দেখলে বুঝতে পারবেন,নারী একজন মানুষকে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দিয়ে থাকেন, মাতৃত্বকে বস্তুতে পরিণত করা যায় না, তাহলে নিজ জন্মের উৎসকেই অস্বীকার করে ফেলতে হয়।
নারীকে সম্মান করুন। নারী হন মানবিক। তার মধ্যেই একজন মানুষের সম্পূর্ণ পৃথিবী রয়েছে। আপনার পৃথিবীতে আসার প্রথম দরজা “মা”। নারীকে সম্মান করা শুধু শিক্ষা নয়, এটি মানুষের ন্যূনতম নৈতিক দায়িত্ব। মনে রাখবেন, দেহ সৃষ্টি করে জীবন, প্রেম সৃষ্টি করে সম্পর্ক আর সম্মান সৃষ্টি করে মানবতা। সেই মানবতাকেই চিনতে জানতে শিখতে হবে।
