bipotarini and mataOthers 

জেনে নিন বিপত্তারিণী পুজোর উপাচারের নিয়মগুলি

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:কাল বিপত্তারিণী পুজো। বিপদ কাটানোর তাগিদে কিছু নিয়ম বা পূজার্চনা আমরা করে থাকি।
১৩ জুলাই মঙ্গলবার বিপত্তারিণী পুজো ঘিরে হিন্দু ঘরের মেয়েদের উৎসাহ থাকে ৷ প্রথা মেনে আষাঢ় মাসের শুক্লা পক্ষের পঞ্চমি তিথিতে শনি বা মঙ্গলবার দিন বিপদত্তারিণীর পুজো করা হয়ে থাকে।

মূলত সংসার ও সন্তানদের জন্য এই ব্রত পালন করা হয়ে থাকে। প্রাচীন কাল থেকে এই ব্রত পালন হয়ে আসছে। বিশেষ করে মায়েদের মধ্যে ধারণা রয়েছে,এই পুজো করলে কেটে যায় যাবতীয় বিপদ ৷ বিপত্তারিণীপুজোর উপাচারের নিয়মও খুব সাধারণ।

প্রাচীন প্রথা মেনে বিপত্তারিণী পুজোয় হাতে বেঁধে দেওয়া হয়ে থাকে লাল তাগা ৷ তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় দুর্বা ঘাস ৷ প্রচলিত বিশ্বাস, এই তাগা হাতে পরলে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পারে না ৷ হিন্দু মহিলারা বিপদ থেকে মুক্তির জন্য এই দেবীর পূজা-পাঠ করে থাকেন। বিপত্তারিণী পুজো শেষ হওয়ার পর হাতে ওই তাগা বেঁধে দেওয়া হয় ৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এই তাগা পড়েন ৷ পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিপন্মুক্তির জন্য তাগা ধারণ করেন ৷

প্রচলিত নিয়ম ও পুরাণ মত অনুযায়ী এই পুজোয় ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি পান সুপারি ও ১৩টি নৈবেদ্যের কথা বলা হয়েছে। অনেক গ্রামীণ এলাকায় বিপত্তারিণী পুজো ৪দিন ধরে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রথম দিন দেবীর আরাধনা। আবার মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। এই সময় দুই রাত্র ব্যাপী লোকগান, ভজন ও কীর্তনগান হয়ে থাকে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজোতে মেয়েরা উপবাস পালন করেন।

এই পুজোর ব্রত পালন করার জন্য সংযমের রেওয়াজ রয়েছে। এই উপলক্ষে নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেন মা-মেয়েরা ৷ চাল-চিঁড়ে-মুড়ি খাওয়া যায় না ৷ খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও১৩ সংখ্যা রাখা হয়ে থাকে। ফল বা আটা -ময়দার রান্না যাই খাওয়া হবে তা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়েছে ৷ পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যেতে পারে।

সাধারণত জগন্নাথদেবের রথ এবং উল্টো রথের মধ্যে মঙ্গল ও শনিবারে এই পুজো হয়ে থাকে। পুজোর শেষ লগ্নে মন দিয়ে ব্রত কথা শুনতে হয়। ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করার নিয়ম ৷ পাশাপাশি পুজোর পর লাল সুতোয় ১৩ টি গিঁট দিয়ে ১৩ টি দূর্বা বাঁধার নিয়ম। আবার বিপত্তারিণীর মন্ত্রপাঠও রয়েছে ৷

Related posts

Leave a Comment