কাঠমান্ডুতে চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ বুধবার কাঠমান্ডুতে চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় নেপালের জনগণ। তাঁদের অভিযোগ, নেপালের হুমলা জেলাকে ব্যাপকভাবে দখল করে সেখানে ১১ টি নির্মাণ কার্য চালিয়েছে চীন। স্বাভাবিক ভাবেই চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্তের জন্য একটি দল সেখানে পাঠিয়েছে। নেপালে চীনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্রোধ ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের ভূমি দখল করার খবর প্রকাশে আসার পর বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে চীনা দূতাবাসের সামনে স্থানীয় জনগণ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। এর পরে চীন একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, তারা কোনও ভাবেই নেপালের জমি দখল করেনি। নেপালের কেপি শর্মা অলি সরকারের এই বিষয়ে আবার তদন্ত করা উচিত।
কাঠমান্ডুতে চীনের দূতাবাসের বাইরে কয়েকশো মানুষ ব্যানার এবং পোস্টার হাতে নিয়ে জিনপিং সরকারের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়। হুমলা জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর দখলদারির জন্য এই এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, হুমলা জেলার একটি বিরাট অংশ দখল করেছে চীন। তারা এখানে ভবন নির্মাণ করেছে এবং স্থানীয় লোকদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চীন নেপালে এই বিক্ষোভ দেখে বিরক্ত হতে শুরু করেছে। কাঠমান্ডুতে প্রায় তিন ঘন্টা চলে এই বিক্ষোভ। পরে চীনা দূতাবাস একটি বিবৃতি জারি করে এবং তারা এটা পরিষ্কার করতে চায় যে, নেপালের সাথে তাদের কোনও সীমান্ত বিরোধ নেই।
হুমলা জেলায় চীন যে নির্মাণ কাজ করেছে তা তার সীমান্তের মধ্যেই হয়েছে। নেপাল সরকারের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে পরিষ্কার করা। বুধবার সকালে নেপাল পত্রিকা ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, চীন হুমলা জেলায় ১১ টি ভবন নির্মাণ করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন সেখানকার কর্মকর্তাদের কাছে। এর পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। চীনা সেনারাও সেখানে উপস্থিত ছিল। স্থানীয় লোকেরা চীনা সেনাদের সেখানে আসতেও বাধা দেয়। জানা যায়, সেখানে নেপালের ভূমি দখল করতে চীন সৈন্যরা এখানে অনেক সীমান্ত স্তম্ভ নিখোঁজ করেছিল।

