sachin-pilotBreaking News Politics 

সচিন-কংগ্রেস বিচ্ছেদ চূড়ান্ত, পাইলট কী এবার গেরুয়া শিবিরে, নাকি নিজের নতুন দলে ?

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বার বার দলের তরফে সন্ধির বার্তা দিলেও সাড়া দিচ্ছিলেন না সচিন পাইলট৷ অন্যদিকে, এখনই রাজস্থানে সরকার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও নেই৷ তাই এবার বিক্ষুব্ধ সচিন পাইলটের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কংগ্রেস৷ সূত্রের খবর, রাজস্থানের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল সচিনকে৷ একই সঙ্গে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকেও৷ পাশাপাশি পাইলট-ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকেও মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলে জানা যায়৷

সবমিলিয়ে পাইলট-কংগ্রেস বিচ্ছেদ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিকমহল৷ এ দিন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা জানিয়েছেন, সচিন পাইলটকে পরিবারের একজন ভেবে বার বার ফিরে আসার অনুরোধ করা হয়েছিল৷ তবে তিনি তাতে সাড়া দেননি৷ বাধ্য হয়েই এই কড়া পদক্ষেপ নিতে হল দলকে৷ সূত্রের আরও খবর, রাজস্থানের পরিষদলীয় দলের বৈঠকে আলোচনা করে এই ঘোষণা করা হয়৷ বিদ্রোহী বাকি বিধায়কদেরও শোকজ করা হয়েছে বলে জানা যায়৷

রণদীপ সুরজেওয়ালা এদিন আরও জানান, সচিন পাইলট ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বিজেপি-র ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে রাজস্থানে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছিলেন৷ তাই তাঁদের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ করা হল৷ অন্যদিকে, রাজনীতিবিদদের ধারণা, এই বার্তার মাধ্যমে কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিল যে, দল রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের পাশেই রয়েছে৷ অন্যদিকে, সচিন পাইলটের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না৷ তাঁকে প্রদেশ সভাপতির পদ থেকেও সরানোর চেষ্টা হয়েছে৷

সূত্রের আরও খবর, পাইলটের বিরুদ্ধে আগেই সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগে মামলা করেছিল রাজস্থান পুলিশের বিশেষ দল৷ এসব নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়ে হাইকম্যান্ডের কাছে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর দাবিও জানান সচিন পাইলট৷ তবে তাঁর চাপের কাছে মাথানত করেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ পাশাপাশি এই ক্ষোভ কমানোর চেষ্টায় তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, পি চিদম্বরম, কে সি বেণুগোপালের মতো প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। তবে ফল কিছুই হয়নি বলে খবর। যদিও নিজের দাবিতে অনড়ই থাকেন সচিন৷

এক্ষেত্রে সচিন পাইলটের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তাঁর সঙ্গে অন্তত ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে৷ ফলে রাজস্থানে অশোক গেহলট সরকার মূলত সংখ্যালঘু৷ অন্যদিকে, বিধায়কদের এক বৈঠক ডেকে অশোক গেহলট প্রমাণ করে দেন, প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাঁর দিকেই৷ এক্ষেত্রে সরকার বাঁচানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই পাইলটের বিরুদ্ধে কংগ্রেস এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল৷

বর্তমান পরিস্থিতিতে সচিন পাইলট বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনার পাশাপাশি তিনি নতুন দল তৈরি করতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞমহল৷ এখন তিনি কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারই প্রত্যাশা।

Related posts

Leave a Comment