ভরা কোটালে উদ্বেগ বাড়ছে সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায়
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:২৬ জুনের ভরা কোটাল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাই চলছে সুন্দরবন-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় নদী বাঁধ মেরামতির কাজ। প্রশাসনিক সূত্রের খবর,সুন্দরবন-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় রয়েছে প্রায় ১৮০ কিমি নদী বাঁধ। আবারও আসছে ভরা কোটাল। এই অবস্থায় অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। রাজ্য সেচ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে,প্রায় ১৫২ কিমি নদী বাঁধ সারাইয়ের কাজ শেষ করে ফেলেছে জেলা প্রশাসন। বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। নবান্ন থেকেও সতর্ক করা হয়েছে আগামী ২৬ তারিখের এই ভরা কোটাল নিয়ে। দিঘা থেকে বকখালি পর্যন্ত গত ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জলস্তর ১৬.৬৩ ফুট হয়েছিলএবং আগামী ২৬ মে সেই স্তর আরও বাড়বে বলে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস।
উল্লেখ্য,ঘূর্ণিঝড় “যশ”প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গোসাবা সহ বেশ কিছু এলাকায় । স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায় ও সেচ দফতর তৎপরতার পাখিরালা, কুমিরমারি ও রাঙাবেলিয়ায় বাঁধের কাজ একপ্রকার শেষ হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি দুলকি, গোনাগাঁ অঞ্চল সহ ওই সব এলাকায় কাজ শেষ হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে সেচ দফতর। কুলতলি ও পাথরপ্রতিমাতে কাজ চলছে বলে জানা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত সাগর দ্বীপের ধবলাহাট, মুড়িগঙ্গা সহ একাধিক এলাকায় দ্রুত কাজ চলছে বাঁধ নির্মাণের । আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বজবজ ও মহেশতলা এলাকায় নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঁধের কাজ শেষ হয় ।
স্থানীয় মানুষকে চিন্তায় রেখেছে আগামীর ভরা কোটাল। সেচ দফতর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাঁধের কাজ শেষ করতে না পারলে সমস্যা বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও নদী বিশেষজ্ঞদের এক্ষেত্রে ধারণা , আগামী ২৬ মে যে কোটাল আসবে তার মাত্রা অনেক বেশি হবে। ফলে একাধিক বাঁধ উপচে গ্রামে জল ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও থাকছে। ফলে ঘূর্ণিঝড় “যশ”-এর কারণে যে সব নদী বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই সব জায়গা ভাল করে মেরামতি না হলে আগামী কোটালে আবারও জল ঢুকে গ্রামগুলি প্লাবিত করতে পারে ৷ রাজ্যের সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, দফতরের ইঞ্জিনিয়র ও কর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় বাঁধের কাজ শেষ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

