অতীত কথা: আলতার কল্কা বাঙালি সংস্কৃতিতে অন্যমাত্রা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: আগত দুর্গাপুজো। সাবেকি লালপাড় সাদা শাড়ি। সেই শাড়ির সঙ্গে পায়ে রাঙা আলতার কারুকাজ। বঙ্গ মা ও মেয়েদের ভিন্ন এক অনুভূতি। পুজো-পার্বণের মতো অনুষ্ঠানে এই রীতি-রেওয়াজ দেখা যায়। দুর্গা মায়ের আরাধনার দিনগুলিতে পায়ে রাঙা আলতা পরার চল বহু প্রাচীন আমল থেকেই।
আলতার ঐতিহ্যবাহী নকশার সৌন্দর্য আজও অটুট। আলতার কল্কা বাঙালি সংস্কৃতিতে অন্যমাত্রা এনে দিয়েছে। আলতার বিশেষ ডিজাইনে পায়ের সৌন্দর্যও বেড়ে যায়। প্রাচীন আমলের অনেক ডিজাইন আঁকতেও দেখা যায়।
পদ যুগলে রাঙা আলতা বাঙালি মহিলাদের চিরন্তন বিষয় । লাল আলতায় পায়ের রূপের বাহার দেখা যায় মহিলাদের মধ্যে। হাতের শাঁখা-পলা ও গয়নার সঙ্গে শোভা পায় লাল আলতার কল্কা-সাজ। পুজোর দিনে এটি আলাদা মাত্রা এনে দেয়। আধুনিক সময়ে আলতা পরার চল কমে এলেও একেবারে সেই আভিজাত্য কমেনি। শহরের বুকেও মা-বৌদি ও মেয়েদের আলতা পরা সাজ দেখা যায়।
পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও পুজোর সময় মহিলারা আজও নিজ পা রাঙিয়ে তোলেন আলতার সৌন্দর্যে। আলতা ছাড়া বঙ্গ-ললনাদের সাজ সম্পূর্ণ হয় না। পুজোর মরশুমে আলতা ব্যবসায়ীদের বাজার অনেকটাই ভালো হয়। আলতার নানা সাবেকি নকশার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই তরল পদার্থ ত্বকের কোনও ক্ষতি করে না। সাধারণভাবে এটিতে হার্বাল উপাদানই থাকে। আলতা দিয়ে অনায়াসেই ত্বকের উপর নকশা ফুটিয়ে তোলা যায়।
প্রস্তুতকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক তরল আলতা পান পাতা এবং সুপারি দিয়েই তৈরি করা হয়ে থাকে। বর্তমান দিনে কেমিক্যাল যুক্ত আলতা পাওয়া গেলেও তা থেকে সাবধানী হতে হবে ত্বকের জন্য। সাধারণত আলতার লাল রঙ আসে পান পাতা থেকেই। এক্ষেত্রে পান পাতা বেটে দীর্ঘ সময় ধরে জলে মিশিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতি মেনেই তৈরি হয়ে থাকে রাঙা তরল আলতা। (ছবি:সংগৃহীত)

