MintHealth Others 

পুদিনা উপকারী ভেষজ- জেনে নিন গুণগুলি

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : পুদিনা একটি বিশেষ উপকারী ভেষজ। গ্রীষ্মকালে বা গরমের সময় এর গুরুত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভিনরাজ্যে সব্জি হিসেবে এটির চাহিদা রয়েছে। উল্লেখ করা যায়, সমগ্র বিশ্বে প্রায় ২৫টি প্রজাতির পুদিনা পাওয়া যায়। তবে মেনথা স্পিকাটা (Mentha Spicata) নামক প্রজাতিটি সর্বত্র পাওয়া যায়। ইংরেজিতে এটিকে মিন্ট বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে মিন্ট ওয়েল তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রজাতির পুদিনার চাষ করা হয়ে থাকে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুদিনা অগ্নিবর্ধক, রুচিকর, মুখের জড়তানাশক, বলকারক, সুস্বাদু, হৃদয়ের বলকারক, কফ ও বাতনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অরুচি, গ্রহণী, অতিসার, জ্বর, কৃমি, বিসুচিকা, কফ ও কাশিতে উপকার পাওয়া যায়। আবার মত্ততা, বমি ও হিক্কা প্রভৃতি ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, এটি জীবাণুনাশক, রক্তশোধক, হজমকারক, কফনাশক, প্রস্রাবকারক ও বিষনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়।

পাশাপাশি পাকস্থলীর প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস, শিশুদের নানাবিধ পেটের রোগ, নানাবিধ চর্মরোগ-সর্দি-অ্যালার্জি, উদ্বেগ, অবসাদ, কর্ণশূল, রক্তহীনতা, অনিয়ন্ত্রিত কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীরের অভ্যন্তরীণ বিষ (টক্সিন), আমাশয় ক্ষত, ক্লান্তি, মুখে দুর্গন্ধ, গর্ভাবস্থায় বমি ও মূর্ছা, বাতের যন্ত্রণা, গলব্লাডার ও পাকস্থলীর ক্রিয়াবৈকল্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে এটি উপকারী। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, পুদিনা জন্মনিরোধক গুণ-সম্পন্ন। পুদিনায় মনোটারপিন নামক একপ্রকার ক্ষারীয় উপাদান থাকার জন্য এটি যকৃৎ, ফুসফুস, কোলন, প্যানক্রিয়াস ও ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে, কিডনি ও ব্লাডারের পাথর বা স্টোন নষ্ট করতে পারে পুদিনা। এটিতে ভিটামিন- বি, সি, ডি, ই, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটস, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন রয়েছে। এটি উচ্চ ক্ষমতা-সম্পন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ভেষজও। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের আরও বক্তব্য, পুদিনার চাটনি ও সরবত করেও খাওয়া যায়। পুদিনার রস এক চা-চামচের সঙ্গে লেবুর রস ও মধু পরিমাণমতো মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

আবার পুদিনাপাতা বাটা জলে মিশিয়ে চিনি-মিছরি-বাতাসা দিয়ে সরবত বানিয়ে খাওয়া যায়। হালকা গরম জলে পুদিনা পাতার বাটা মিশিয়ে সেই জলে স্নান করলে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ নষ্ট হতে সাহায্য করে। পুদিনার গাছ ও পাতা সিদ্ধ জলে গার্গল করাও যেতে পারে। এই জলের গরম ভাপ নিলে কফ-কাশি ও গলাব্যথা কমে যায়। এছাড়া অরুচি, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরশূল, অতিসার, পাকস্থলীর প্রদাহ, মূত্রকৃচ্ছ্রতা, দুর্বলতা, প্রসবান্তিক ও জ্বরান্তিক দুর্বলতা, সাধারণ দুর্বলতা, শরীর থেকে টক্সিন বের করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পুদিনার পাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আরও মত, পুদিনার ডগা ৮ থেকে ১০ গ্রাম বেটে এক গ্লাস জলে মিশিয়ে তাতে সামান্য নুন, মরিচের গুঁড়ো, কাগজি বা পাতিলেবুর রস ৮ থেকে ১০ ফোঁটা, প্রয়োজনে গুড়, চিনি বা মিছরি সামান্য পরিমাণে মিশিয়ে ভালভাবে গুলে ও ছেঁকে নিয়মিত কয়েকদিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে। শিশুদের পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, অতিসার, হিক্কা ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি উপকারী। বমি ভাব থাকলে পুদিনা পাতার রস ৮ থেকে ১০ ফোঁটা এক চা-চামচ পর্যন্ত নিয়ে বয়স অনুপাতে সামান্য নুন ও চিনি মিশিয়ে কয়েকবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

Related posts

Leave a Comment