বিজেপির “দরিদ্রতম” প্রার্থী চন্দনা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই

bjp candidate and chandona

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বিজেপির “দরিদ্রতম” প্রার্থী চন্দনা বাউরি। ঝুপড়ি বাড়িতে নেই শৌচালয় ও পানীয় জল। স্থানীয় সূত্রের খবর,ঘরে একটা আলুমিনিয়ামের বাক্স, একটা টেবিল, কাঠের তক্তা বিছানো বিছানা। আর কিছু বই খাতা। এই বাড়ির চন্দনা বাউরিই এবার একুশের নির্বাচনে বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,চন্দনার মোট স্থাবর সম্পত্তি বলতে ৩১ হাজার ৯৮৫ টাকা। পাশাপাশি স্বামী শ্রাবণ বাউরির স্থাবর সম্পত্তি ৩০ হাজার ৩১১ টাকা।

মনোনয়ন দাখিল করার সময় চন্দনা তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখন মাত্র ৬ হাজার ৩৩৫ টাকা রয়েছে। আর স্বামীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১ হাজার ৫৬১ টাকা। চন্দনা ও শ্রাবণের নিজেদের জমি বলতে কিছুই নেই। পেশায় দিনমজুর। স্বামী শ্রাবণ সংসার চালান রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। কাজ থাকলে দিনে ৪০০ টাকা উপার্জন হয় । বর্ষা এলে এই কাজের ব্যাঘাত ঘটে।

পারিবারিক সূত্রের খবর,চন্দনা মাত্র ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। বাড়িতে রয়েছে ৩ টি ছাগল ও ৩ টি গরু। গরু-ছাগলদের সঙ্গে এক ঘরেই বসবাস করেন চন্দনারা। বাঁকুড়ার শালতোড়া আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। এই আসন থেকেই প্রার্থী হয়েছেন চন্দনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিভিতে খবর শুনে প্রতিবেশীরাই চন্দনাকে জানিয়েছেন এবার শালতোড়া কেন্দ্রে তিনিই বিজেপির প্রার্থী। জয়ের বিষয়ে আশাবাদী চন্দনা বাউরিও। বাড়ির কাজ সেরে দলের প্রচারে নামছেন তিনি।

বাড়ির সমস্ত কাজ করে সন্তানদের শাশুড়ির দায়িত্বে ছেড়ে প্রচারে বের হন বিজেপি প্রার্থী। এলাকায় ধর্ষণের ঘটনায় সরব তিনি। তাঁর মুখে শোনা গেল, বিজেপি এলেই সব থামবে। বিজেপি মহিলা-বান্ধব দল। মেয়েদের জীবন আরও সুরক্ষিত করবে। বিধায়ক হয়ে গরিবদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য। তাঁদের উন্নয়ন করাই হবে অগ্রাধিকার।

ঘরের একপাশে ছড়ানো বইগুলোর দিকে একপলক চেয়ে তাঁর আরও মন্তব্য, “আমি পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। মাধ্যমিকের সময় বাবা মারা যান। বিয়ে হয়ে গেল। তখন ক্লাস ইলেভেন, অসুস্থ হয়ে পড়লো শ্রাবণ, এরপর সন্তান এল। ফাইনাল পরীক্ষাটা আর দেওয়া হল না আমার।” জয়ের লক্ষ্য এবং স্বপ্ন পূরণের আশাতেই মত্ত পদ্ম প্রার্থী চন্দনা।

খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *