বিমান যোগে শিশুর কাছে আসছে মায়ের দুধ, এখনও মানুষ মানবিক
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : প্রতিদিন হাজার কিমি উড়ে শিশুর কাছে আসছে মায়ের দুধ। সূত্রের খবর, মায়ের স্নেহের পরশ থেকে ১ মাসের শিশু বঞ্চিত। করোনা আবহে মহামারী ও এক জটিল রোগ হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব তৈরি করেছে মা ও শিশুর মধ্যে। তবে দূরত্ব মায়ের দুধ থেকে শিশুকে আলাদা করতে পারেনি। প্রতিদিন হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মাতৃদুগ্ধ এসে পৌঁছাচ্ছে সেই শিশুর কাছে। জানা গিয়েছে, গত ১৬ জুন জম্মু ও কাশ্মীরে লের এক হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল ওই শিশুপুত্রের। জন্মের পরই মা দোরজে পালমো লক্ষ্য করেছিলেন, শিশু নিজে থেকে দুধ টানতে পারছে না। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দিল্লি এসে পৌঁছেছিলেন।
মাইসুরুর কর্মস্থল থেকে চলে এসেছিলেন বাবা জিকমেত ওয়াংদুস। শালিমার বাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সূত্রে বলা হয়, সদ্যোজাত শিশুটি বিরল রোগে আক্রান্ত। এই রোগে খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী একসঙ্গে জুড়ে থাকে। এরপর সদ্যজাত শিশুটির অস্ত্রোপচার হয়। শিশুটিকে সুস্থ করার জন্য মায়ের দুধের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ভয়ে অসুস্থ মাকে দিল্লি আনাও সম্ভব ছিল না পরিবারের পক্ষ থেকে। এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন লে বিমানবন্দরে কর্মরত ওয়াংদুসের কয়েকজন বন্ধু। তারপর একটি বেসরকারি সংস্থার বিমানে প্রতিদিন বাক্সবন্দি মায়ের দুধ দিল্লি এসে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিদিন কোনও না কোনও এক সহৃদয় যাত্রী তা নিয়ে আসছে বলে খবর। এরজন্য উড়ান সংস্থাকে কোনও টাকা দিতে হচ্ছেও না। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, প্রতিদিন একই সময়ে দিল্লি বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে শ্যালককে নিয়ে অপেক্ষা করেন ওয়াংদুস। গত ১ মাস ধরে চলছে এই রুটিন পর্ব। এখনও মানুষ কতটা মানবিক!

