পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কথা-কাহিনী

puri mandir

আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: জগতের নাথ জয় জগন্নাথ। আমরা জগন্নাথ দেবের লীলাকাহিনীর কথা কম বেশি অনেকেই জানি। শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের সেবায় ৫৬ ভোগের কথা-কাহিনী জানি। জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রার বিশেষ পর্বের কথা শুনেছি। ভগবান জগন্নাথ ও তাঁর রূপের ইতিহাসের বর্ণনা পাই। জগন্নাথদেবের ভোগে পান নিমপাতার ব্যবহার উল্লেখ পাই। পুরীর একটি পবিত্র তীর্থস্থান পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির। পুরীর পূর্ব সমুদ্র উপকূলে এই মন্দিরের অবস্থান। স্থানীয় সূত্রের খবর, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বপ্নাদেশ পালনে এই মন্দির নির্মাণ হয়। জগন্নাথ মন্দিরটি দ্বাদশ শতাব্দীতে পুনরায় নির্মাণ করেন গঙ্গা রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোদাগঙ্গা। তবে মন্দির তৈরির কাজ সমাপন করেন এই পরিবারের বংশধর অঙ্গভিমা দেব। বিষয়টি নিয়ে নানা মতের কথাও শোনা যায়।

একনজর জেনে নেওয়া যাক, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিশেষ দিকগুলি। ১০.৭ একর জমিতে ২০ ফুট প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এই মন্দির। ভোগমন্দির, নটমন্দির, জগমোহনা ও দেউল নামে ৪টি বিশেষ কক্ষ রয়েছে মন্দিরে। ভোগমন্দির প্রসাদ বা খাওয়া দাওয়ার জন্য। নাটমন্দির নাচ-গানের জন্য। জগমোহনা ভক্তদের পুজো-পাঠ করার জন্য। দেউলে পূজনীয় বিগ্রহগুলো স্থাপিত রয়েছে। প্রধান মন্দিরের কাঠামো মাটি থেকে উঁচুতে নির্মিত ও দুটি আয়তাকার দেয়াল দ্বারা আবৃত রয়েছে। মন্দিরের বহিঃপ্রাঙ্গণকে মেঘনাদ প্রাচীর বলা হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণ কুর্মাবেদ নামে পরিচিত।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ৪টি প্রবেশদ্বার। সিংহদ্বার, হষ্বদ্বার, খঞ্জদ্বার ও হস্তীদ্বার। জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন স্থানে প্রায় ৩০টি ছোট-বড় মন্দির দেখা যায়। মন্দিরের দেউলে অবস্থান করেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ, জগন্নাথের দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাদেবী। সুসজ্জিত করে রাখা হয় এই মূর্তি। বিগ্রহের পাশাপাশি সুদর্শন, শ্রীদেবী, ভূদেবী এবং মাধব দেবতাও পূজিত হন । প্রতিদিন ভোরে নির্দিষ্ট পূজাবিধি মেনে মন্দিরের ৬৫ মিটার বা ২১০ ফুট উঁচুতে পৌঁছে চক্রের উপর পতাকাগুলো লাগানো হয়। এক্ষেত্রে গ্রীষ্ম, বর্ষা বলে কিছু থাকে না। আবার পূর্বের দিনের পুরনো পতাকাগুলো নিলামে বিক্রয় করা হয়। জগন্নাথ মন্দিরের এই রান্নাঘরকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রান্নাঘর বলা হয়ে থাকে । ছাপান্নরকম উপকরণ দিয়ে মহাপ্রসাদ তৈরি করা হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে আরও বলা হয়ে থাকে, রোজ এখানে প্রচুর পরিমানে রান্না করা হয়। তবে প্রচলিত রয়েছে মন্দিরের খাবার কোনও অবস্থাতেই নষ্ট হয় না বলে। (ছবি: সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *