রবীন্দ্রনাথের প্রচ্ছদে অশ্লীলতা: লেখকের চরম পদক্ষেপ, বই বের হবে না!
কলকাতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী নিয়ে রচিত একটি বইয়ের প্রচ্ছদে অশ্লীল চিত্র ব্যবহারের ঘটনায় চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন লেখক পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। লেখকের অজান্তেই এই বিতর্কিত প্রচ্ছদ তৈরি করা হয়েছিল বলে জানান লেখক পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখক ঘোষণা করেছেন, “ওই মলাটে বইটা বেরবে না।” তিনি আরও বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির মননশীলতার ভিত। বিকৃত রুচির লোকজন সেই কবিগুরুকেও ছাড় দিল না!”
সামাজিক মাধ্যমেও বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অবমান বলে মনে করছেন।
প্রকাশক সুমন ভৌমিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা কারও অনুভূতিতে আঘাত করতে চাইনি।” তিনি আরও বলেছেন, নতুন প্রচ্ছদ তৈরি করে বইটি শীঘ্রই বাজারে আনা হবে।
এই ঘটনা রবীন্দ্রপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রবীন্দ্রনাথের মতো একজন সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি এমন অসম্মানজনক আচরণ কেন করা হলো?
‘রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনী’ পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গবেষণামূলক বই। সেবই প্রকাশের অনেক আগেই বইয়ের একটি মলাট আঁকিয়ে প্রকাশক পোস্ট করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে সে মলাট নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ায় পার্থজিৎবাবু বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশককে অঙ্কিত মলাট ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন । শুধু তাই নয়, এ বই প্রকাশ করতেও নিষেধ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে পার্থজিৎবাবু গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। ঠাকুরবাড়ির নিয়ে অন্তত তিরিশটি বই লেখা ও সম্পাদনার পর এজাতীয় ঘটনা তাঁরা কাছে হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে। মলাট তো লেখক আঁকেন না, লেখক প্রকাশককে পাণ্ডুলিপি দেওয়ার পর প্রকাশকই বইটিকে সাজিয়েগুছিয়ে প্রকাশ করেন। পার্থজিৎবাবু জানিয়েছেন, মলাটের ব্যাপারে তাঁর কোন দায় নেই। এ বই তো এখনও বের হয়নি। ওই প্রকাশককেও বইটি প্রকাশ করতে আর দেবেন না।
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ছোটদের লেখক হিসেবে সুপরিচিত। গবেষক হিসেবে তাঁর খ্যাতিও কম নয়। ঠাকুরবাড়ি নিয়ে নিরন্তর কৌতূহল। বহু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। ঠাকুরবাড়ির আড়ালে থাকা ঘটনা ও ব্যক্তিত্বদের কথা লিখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়স্তরে তাঁর প্রথম গবেষণাটিও ঠাকুরবাড়ি বিশিষ্ট এক ব্যক্তিত্ব অবনীন্দ্রনাথ সম্পর্কে। এই গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করেছে। পরে বৃহত্তর গবেষণার জন্য রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে পোস্টডক্টরেট দিয়েছে ।

