সংরক্ষণ নিয়ে ভাবুক শীর্ষ আদালত

SUPRIM COURT

আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের সংবিধান প্রণেতারা সংবিধানে সংরক্ষণ সম্পর্কিত দুটি ধারার প্রস্তাব করেছিলেন -১৬(৪)ও ৩৩৫। প্রথম ধারায় বলা ছিল, অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সরকারি চাকরিতে পদ সংরক্ষণ করতে হবে। এবং দ্বিতীয়টিতে বলা ছিল, প্রশাসনের উৎকর্ষ ব্যাহত না করে তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ করা যাবে। পরবর্তীতে,১৯৯৩ সালের ইন্দ্র সাহানি মামলায় শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট দুটি নির্দেশ দেয়। এক, শুধু সামাজিক ভাবে অনগ্রসরদের ক্ষেত্রে ১৬(৪)ধারা প্রযুক্ত হবে। দুই, কোনও অবস্থাতেই সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি করা যাবে না।

এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট যে সাম্প্রতিক রায় দিয়েছে তা ঐতিহাসিক । কারণ, এই রায়ে তথাকথিত জেনারেল ক্যাটেগরির অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চাদপদ শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় ইন্দ্র সাহনি মামলার রায়ের বিরোধিতা করেছে। তাই শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিশ্চিতভাবে ঐতিহাসিক। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সংবিধান প্রণেতারা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু সংবিধান প্রবর্তনের ৭২ বছর পরেও সামাজিক ন্যায় কী আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?৩৩৫ ধারা যে উৎকর্ষের শর্ত আরোপ করেছিল, তাকে পাত্তা না দিয়ে নির্বিচারে পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে ক্রমাগত।

অর্থাৎ ওই দুই ধারার একটা সংকট তৈরি হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে আশা করা বৃথা। এজন্য আশা ভরসার একমাত্র স্থল হল-সুপ্রিম কোর্ট। এর দিশা ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট যদি জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে ভারতে ন্যায়বিচারের আদর্শ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। (ছবি: সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *