সাহিত্যিক সমরেশ নেই : এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

samoresh memories

আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: কালবেলা ও সাতকাহন-এর স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার আজ আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ১০ মার্চ ১৯৪২ সালে তাঁর জন্ম। শৈশব জীবন কেটেছে ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় । জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় । ১৯৬০ সালে তিনি কলকাতায় চলে এসেছিলেন। এরপর বাংলায় স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স হন ।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ প্রভৃতি। “কালবেলা”, “কালপুরুষ” প্রভৃতি উপন্যাস তাঁকে বাঙালির মনে স্থান করে দিয়েছিল। তাঁর লেখার মধ্যে উত্তরবঙ্গের তিস্তা আর করলানদীর পূর্বাভাস মেলে ৷ পাঠক-পাঠিকাদের হৃদমাঝারেও সেই জলতরঙ্গ অনুভূত হয়েছে। ১৯৭৯-৮০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে দেশ পত্রিকায় লিখেছিলেন “উত্তরাধিকার” উপন্যাস ৷ নকশাল আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন ছিল তাঁর উপন্যাসের প্রেক্ষাপটও । লেখায় বারবার ফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের কথা ও কাহিনী ৷ উত্তরবঙ্গের পাহাড়, উত্তরবঙ্গের নদী ও জনপদ তাঁর লেখনীর মাধ্যম হয়ে উঠেছে ৷ জলপাইগুড়ি জেলার ভূমিপুত্র ছিলেন লেখক। কিশোর-শৈশবে জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের যে ছাপ তাঁর জীবনে পড়েছিল, আমৃত্যু সেই পথই পাথেয় হয়েছিল প্রতি মুহূর্তে।উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় চলে আসা ৷ লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। ফেলে আসা পথ তিনি ভুলে যাননি কখনও। উত্তরের পাহাড়ি সবুজ প্রান্তর,ডুয়ার্স ও জলপাইগুড়ি রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাঁকে ঘিরে রেখেছিল। আর সেই ছাপ আমৃত্যু তাঁর লেখায় প্রভাব ফেলেছে। বরেণ্য এই সাহিত্যিকের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সাহিত্য মহল। তাঁর প্রয়াণে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। (ছবি : সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *