পেয়ারায় মাছির উপদ্রবে চাষিদের কপালে হাত

Guava Plants

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আম্ফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বারুইপুরের পেয়ারা চাষ। এবার পেয়ারা বাগানে মাছির উপদ্রব ঘিরে আতঙ্ক চাষিদের। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি এসে আক্রমণ করছে পেয়ারার গাছ। ফল ছিদ্র করে তার মধ্যেই ডিম পাড়ছে। এক্ষেত্রে ভিতর থেকে পেয়ারা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আক্রান্ত হয়ে যাওয়া ফল কয়েক দিনের মধ্যেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর জেরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এই চাষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বারুইপুর ব্লকের ১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের ৭টি পঞ্চায়েত এলাকায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।

যার মধ্যে আম্ফান ঝড়ের তাণ্ডবে ১০ শতাংশ গাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আবার যেসব গাছে পেয়ারা ছিল ঘূর্ণিঝড়ে বেশিরভাগটাই পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় চাষিদের বক্তব্য, ক্ষতিগ্রস্ত গাছের ডালপালা ছেঁটে গোড়ার সার-মাটি দিয়ে নতুন করে গাছ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বারুইপুরের কাছারি বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ টন পেয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বছরে বিদেশে রপ্তানি হয় প্রায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা। এক্ষেত্রে চাষিরা পাল্লাপিছু ৩০০ টাকা করে দাম পেতেন। করোনা ও আম্ফান-এর জেরে সেই ব্যবসা এখন ব্যাপক মন্দায়।

অন্যদিকে পেয়ারা চাষিদের জন্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফলের মাছির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এবং পেয়ারা বাঁচাতে ২০ মাইক্রনের পলিথিন দিয়ে প্রতিটি ফল মুড়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এই মাছি সাধারণত দিনের বেলায় আক্রমণ করে না। রাতে এরা গাছের গোড়ায় ঝাঁক বেঁধে অবস্থান করে। পেয়ারা গাছের গোড়ায় সেচ দিয়ে ২ ইঞ্চির মতো জল জমিয়ে রাখলে মাছির আক্রমণ ঠেকানো যেতে পারে। এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, এই মাছি দমনে জৈব পদ্ধতিতে ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছ প্রতি ১টি ফাঁদ ব্যবহার করলেই চলবে। এতে দিতে হবে মিথাইল ইউজিনল। এর সুগন্ধে পুরুষ মাছি আকৃষ্ট হবে এবং ফাঁদে ধরা দেবে। এই ফলের মাছি রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন করা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। এক্ষেত্রে এসিফেট ৭৫ শতাংশ ডব্লুপি প্রতি লিটার জলে ০.৭৫ গ্রাম মিশিয়ে দিনের বেলায় স্প্রে করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *