শিবরাত্রিতে বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দিরে হয় অগণিত ভক্ত সমাগম
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দিরের খ্যাতি রয়েছে। বিশেষ টানে মন্দিরে আসেন ভক্ত-দর্শনার্থীরা। শিবরাত্রি উপলক্ষে বর্ধমানের একশো আট শিব মন্দিরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী শিবরাত্রিতে পুজো দিতে ভিড় জমান। ভিন রাজ্যের ভক্তদেরও ভিড় দেখা যায় । প্রাচীন এই মন্দিরে অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে । আয়োজক সূত্রের খবর, বহু ভক্ত এখানে একশো আটটি মন্দিরে ঢুকে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে ব্রত পালন করে থাকেন। শিবরাত্রি তিথিতে ৭ দিনের মেলা বসে মন্দির ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, একশো আট শিব মন্দিরের কথা বলা রয়েছে। তবে রয়েছে একশো ন’টি। জপমালার মতো রয়েছে একশো আটটি মন্দির। বাকি একটি একটু দূরে অবস্থিত। বর্ধমানের একশো আট মন্দিরের খ্যাতি এখন ছড়িয়ে পড়েছে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও ভক্ত-দর্শনার্থীরা এই মন্দিরে পুজো দিতে চলে আসেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বর্ধমানের নবাবহাটে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে এই মন্দির গড়েছিলেন মহারানি বিষণকুমারী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্ন্যাসীদের এনে জাঁকজমক করে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
স্থানীয়ভাবে কথিত রয়েছে, শিবমন্দির প্রতিষ্ঠার একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। এই মন্দিরের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। শেষ হয়েছিল ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে। ওই সময় বর্ধমান সংলগ্ন নবাবহাট এলাকায় মহামারি দেখা দিয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়। স্বজন হারিয়ে শোকে ব্যথিত হন ওই এলাকার মানুষ। এই মন্দির গড়ে বাসিন্দাদের ঈশ্বরমুখী করে শোক ভোলানোর চেষ্টা করেন বর্ধমানের মহারানি বিষণকুমারী । সেই ভাবনা সামনে রেখে নবাবহাটে এই একশো আট শিব মন্দির গড়ে ওঠে। সেই মন্দির ধূমধাম করে প্রতিষ্ঠা হয়। জপমালার আদলে ১০৮টি এবং অতিরিক্ত আর একটি, মোট ১০৯টি স্থাপত্যকে গেঁথে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এই মন্দির। এই মন্দির বর্ধমানের এক অনন্য শিল্পকীর্তি। জানা যায়, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে লক্ষাধিক সাধুর উপস্থিতি ঘটেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,মন্দিরটি ওড়িশার বালেশ্বরের মন্দিরের আটচালার নকশার আদলে নির্মিত হয়। মন্দিরের অবস্থান পাশাপাশি হলেও প্রতিটি মন্দিরের সামনে রয়েছে খোলা টানা বারান্দা। প্রতিটি মন্দিরের একটি দরজা। সব মন্দিরে রয়েছে কষ্টিপাথরের গৌরীপট্ট-সহ শিবলিঙ্গ। আবার প্রতিষ্ঠার সময়ে সবগুলি মন্দিরের সামনেই একটি করে বেল গাছ রোপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

